Logo

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে, ২০২৬, ১১:২৩
গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ছবি- জনবাণী

গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে দেওয়া হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ জানানো ও প্রকাশ করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় দেন। সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন:

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা এবং সামাজিক ভারসাম্যহীনতা বাড়াতে পারে। এটি সংবিধানে নিশ্চিত করা সমতা, মর্যাদা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি। একই সঙ্গে এ ধরনের চর্চা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

বিজ্ঞাপন

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। শুধু নির্দেশিকা তৈরি করলেই হবে না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রায়ে বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনাগত শিশুর সব ধরনের পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত আরও বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি হয় এবং নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি বাড়ে। এটি সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়ের নির্দেশনাকে আদালত “কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতেও এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ বন্ধে রিট আবেদন দায়ের করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহায়তা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD