‘সোজা গুলি করার’ নির্দেশ ছিল শেখ হাসিনার: চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে হওয়া একটি কথোপকথনে শেখ হাসিনার নির্দেশনার বিষয়টি উঠে আসে। ওই আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আমি ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।”
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম বলেন, একজন সরকারপ্রধানের কাছ থেকে এমন নির্দেশনা অত্যন্ত ভয়াবহ ও অমানবিক। এই ধরনের নির্দেশের পরই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তার কাছ থেকে এমন নির্দেশনা কেউ কল্পনাও করেনি। আন্দোলন মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে, তবে সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা বেড়ে যায় এবং বহু স্থানে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে আলোচিত হয় এক-এগারোর সময়কার সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টিও। তাকে সে সময়কার ‘ডি ফ্যাক্টো’ সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, সে সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পেছনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের সময়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আমিনুল ইসলাম জানান, একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নিরাপদ স্থানে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এছাড়া জুলাই-আগস্টের ঘটনাগুলো নিয়ে থানা পর্যায়ের তদন্ত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তের মধ্যে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারাধীন মামলাগুলোতে আপাতত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
গুম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে সেনাসদরে চিঠি পাঠানোর বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি একে তদন্তের প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।








