আরেক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম

রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা রিকশাচালক রিপন হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন। পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সাবেক এই সচিবকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে আনা হয়। আদালতে হাজিরের সময় তার শারীরিক অবস্থা দুর্বল বলে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
শুনানি শেষে আদালত তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করলে বেলা একটার দিকে তাকে হাজতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মামলাটির তদন্ত করছেন পুলিশের লালবাগ জোনের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দিন। তিনি আসামির উপস্থিতিতে আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এবং তাকে হুইলচেয়ারে আদালতে আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তার অভিযোগ, মামলাটি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। তবুও একের পর এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে রাজধানীর সদরঘাট ডিআইটি বাজার মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ আনা হয়। হামলার মধ্যে রিকশাচালক রিপনের গলায় গুলি লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন রাতে তার মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর রিপনের স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো। বর্তমানে তিনি একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।








