Logo

ইনুর বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষ, যে কোনো দিন রায়

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মে, ২০২৬, ২২:০৬
ইনুর বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষ, যে কোনো দিন রায়
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। মামলাটি এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে কোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

শুনানি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, হাসানুল হক ইনু দেশের জনগণের ন্যায্য আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন রাজনীতিকের দায়িত্ব জনগণের দাবিকে মূল্যায়ন করা, কিন্তু ইনু সে পথ অনুসরণ না করে আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়নের পক্ষে অবস্থান নেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে ইনু তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে কারফিউ জারি, আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে তার ভূমিকা ছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাধারণ মানুষকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের ওপর দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে যেসব পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ইনু সেসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর ফলে প্রাণহানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। প্রসিকিউশন অভিযোগের প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ আদালতে দাবি করেন, প্রসিকিউশন যে আটটি অভিযোগ এনেছে, তার কোনোটি নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত টেলিফোন আলাপের রেকর্ডে কোথাও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো বা দমন করার নির্দেশনার কোনো ইঙ্গিত নেই।

তার ভাষ্য, আলোচনায় কেবল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান এবং কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি বিরোধ নেই—এমন বক্তব্যই উঠে এসেছে। তিনি বলেন, যারা নাশকতায় জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধেই সরকারের অবস্থান ছিল, ফলে ইনুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা উসকানির অভিযোগ ভিত্তিহীন। আদালতের কাছে তিনি ইনুর বেকসুর খালাস প্রার্থনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে ট্রাইব্যুনাল তাকে নির্দোষ ঘোষণা করবেন।

বিজ্ঞাপন

গত ২ এপ্রিল আসামিপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে। পরবর্তীতে প্রসিকিউশন পাল্টা যুক্তি তুলে ধরে শুনানি সম্পন্ন করে।

প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উসকানি, প্ররোচনা এবং ষড়যন্ত্রসহ আটটি নির্দিষ্ট অভিযোগে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয় প্রসিকিউশন। এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD