Logo

সোহেল ও স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাই রাষ্ট্রপক্ষ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ জুন, ২০২৬, ১৪:০৮
সোহেল ও স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাই রাষ্ট্রপক্ষ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত আগামী রোববার রায়ের দিন ধার্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আলোচিত এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক আগামী রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

এদিন বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানান।

এর আগে আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অপরদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ জুন ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর আগে ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না। গত ১৯ মে সকালে রামিসাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায় তারা।

পরবর্তীতে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান। সন্দেহ হলে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং বাথরুমের একটি বালতির মধ্যে পাওয়া যায় তার কাটা মাথা।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে উঠে আসে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে দেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দকৃত আলামত এবং আসামিদের সংশ্লিষ্টতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তাই দেশের অন্যতম আলোচিত এই মামলায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে দুই আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে তারা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এখন মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নিহত রামিসার পরিবারসহ পুরো দেশ।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD