Logo

এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এক আসামি কারাগারে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই, ২০২৬, ২১:৫৫
এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এক আসামি কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কারাগারে পাঠানো আসামির নাম আমিনুর রহমান (৫৫)। তিনি মামলার বাদী ও গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এর পর বুধবার (২২ জুলাই) আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।

শুনানি শেষে আদালত আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) এবং রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে ওবায়দুরের ভাগনির সঙ্গে নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানার পর ওবায়দুর পরিবারকে অবহিত করেন এবং নজরুল ইসলামকে এ সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারভিত্তিক একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও ওই নারীর কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের সন্দেহ ছিল, ওবায়দুরই গোপনে ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই বিরোধের জের ধরে গত ১৪ জুলাই তার নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর রহমান তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। তার মা ও ছোট বোন চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই নারীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি করেন এবং ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেন।

ভিডিওকাণ্ডের পর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD