Logo

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন চ্যালেঞ্জ করে রিট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৬
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন চ্যালেঞ্জ করে রিট
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দেশের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ১১ সংসদ সদস্য।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৩০ আগস্ট) ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপিসহ ১১ জন সংসদ সদস্য এ রিট করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, ২০০১ সালেও মন্ত্রীদের এভাবে জেলাভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটে হাইকোর্ট বিভাগ দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শিশির মনিরের দাবি, রুলস অব বিজনেস, সংবিধান এবং উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের আলোকে বর্তমান সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্বের বাইরে এবং বেআইনি।

জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করা সংসদ সদস্যরা হলেন— পাবনা-১ আসনের ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমেদ বিন কাশেম, রংপুর-৫ আসনের মো. গোলাম রব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. মাসুদ পারভেজ, যশোর-১ আসনের মুহাম্মদ আজিজুর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, পটুয়াখালী-২ আসনের শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম, গাজীপুর-৪ আসনের সালাউদ্দিন এবং চট্টগ্রামের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকির জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদের হুইপদের জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেশের ৬৪ জেলার জন্য দায়িত্ব বণ্টন করে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। লুটপাটের অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং আরেকটি অংশ মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়সহ জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন, জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে সরকার জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে সমষ্টিগতভাবে দায়বদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতি নির্মূলকে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বা তার কর্তৃত্বে সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনবোধে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওই বিধান থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে পারেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার আরও বলেছে, বিষয়টি মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নম্বর ৩৫১২/২০০৩-এর রায়ের মর্মার্থও তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের দাবি, ওই রায়ের আলোকে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে সংবিধান ও রুলস অব বিজনেস অনুসরণ করেই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের এসব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এখন হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি ও আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে জেলাভিত্তিক এই দায়িত্ব বণ্টন কার্যকর থাকবে কি না।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD