সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ আসামির মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

রাজধানীর গুলশান-২ আবাসিক এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দি শেষে আসামি মাহবুবুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন। তবে অন্য আসামিদের পক্ষে জেরার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত আগামী ১ নভেম্বর অবশিষ্ট জেরার দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৬ জুলাই সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। পরে ১৯ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকলেও কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় সেদিন কার্যক্রম শুরু হয়নি। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর-২৯, রোড নম্বর-১০৪-এর ২৭ কাঠা পরিত্যক্ত সরকারি সম্পত্তি নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দুদকের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এবং সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই সম্পত্তি অবমুক্ত না করেই জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করেন। পরে এসব নথির ভিত্তিতে জমি হস্তান্তরের অনুমতি ও নামজারির ব্যবস্থা করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে সালাম মুর্শেদীসহ আরও দুজনকে আসামি করে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি।
সালাম মুর্শেদী ছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক, কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান, তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, ইফফাত হক ও তার স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈনও মামলার আসামি।
বিজ্ঞাপন
মামলার নথি অনুযায়ী, সালাম মুর্শেদীকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম এখন পরবর্তী ধাপে এগিয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর বাদী ইয়াছির আরাফাতকে জেরার অবশিষ্ট অংশসহ মামলার পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।








