বগুড়ায় বার সমিতির সিদ্ধান্ত ভাঙায় তিন আইনজীবীকে শোকজ

বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তিন আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তাদের বিরুদ্ধে সমিতির সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শোকজ পাওয়া আইনজীবীরা হলেন অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রুবেল, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা (মজনু) এবং অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওহাব।
বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২৮ সেপ্টেম্বরের পৃথক নোটিশে বলা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বার সমিতির সাধারণ সভায় জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের আদালত বর্জন এবং ওই আদালতে মামলা শুনানি থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে ওই সিদ্ধান্তের পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর তিন আইনজীবী একটি ফৌজদারি মিস মামলার শুনানিতে জজ আদালতের এজলাসে অংশ নেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। বার সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে তাদের শোকজ করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বার সমিতির সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা (মজনু) সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মারমুখী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে কেন তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এদিকে শোকজ পাওয়া তিন আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি একটি ফৌজদারি মিস মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। তার দাবি, ওইদিন বার সমিতির আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত থাকলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং বিচারককে এজলাসে বসিয়ে শুনানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৭ সালের একটি রেজুলেশন অনুযায়ী আদালত বর্জনের আগে ৩০ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এবার সেই বিধান অনুসরণ করা হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করেই তিনি শুনানিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানান। শোকজের জবাবে লিখিতভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. রেজাউর রহমান বলেন, বারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিন আইনজীবী বিচারকের পক্ষে কাজ করেছেন। এ কারণে সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।








