সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও লুটের মামলায় রিমান্ডে ৩ আসামি

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেফতার তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মো. মুয়া (২৯)। মামলার নথিতে তাদের এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের সময় লুণ্ঠিত বিভিন্ন মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবিও করেছে।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদী ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউ ডিওএইচএস প্রোপার্টিজ এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় সাইট প্রকৌশলী মো. পারভেজ (২৮) ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কক্ষ ও কার্যালয়ে ঢুকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ল্যাপটপ, কম্পিউটার মনিটর, ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ যন্ত্র, টাকার বাক্সে থাকা নগদ অর্থ, রড, কেবলসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যায়। হামলার সময় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জামও ভাঙচুর করা হয়।
একই ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ফিশ অব ফিশ’ নামের স্টুডিওতেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, স্টুডিওর আসবাবপত্র, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি ৯৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে লুট বা ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে সনি এফএক্স ক্যামেরা, সার্ভার ব্যবস্থা, সম্পাদনার কম্পিউটার, গিটার, মাইক্রোফোন, শব্দ ধারণের যন্ত্র, সনি এ৭এস ক্যামেরা, জি মাস্টার ৩৫ মিলিমিটার লেন্স এবং জাইস প্রাইম লেন্সসহ বিভিন্ন শুটিং ও প্রযোজনা সরঞ্জাম।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এ ছাড়া ম্যাকবুক, স্যামসাং এসএসডি, পিএস৫ নিয়ন্ত্রক, রেভো ইভি বাইক, বিভিন্ন ধরনের বাতি, সফটবক্স, স্ট্যান্ড, গডক্স লাইট, রিং লাইট, ডিজেআই আরএস৫, ডিজেআই মাইক-২, ট্রাইপড, বায়ু শীতলকারী যন্ত্র ও ডিপ ফ্রিজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট বা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাদীর প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামালসহ মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাট হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুব্রত দেবনাথ পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেন।








