Logo

ইনুর সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহেই আপিল করবে প্রসিকিউশন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৩৫
ইনুর সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহেই আপিল করবে প্রসিকিউশন
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে সাজা বাড়ানোর আবেদন করে চলতি সপ্তাহেই আপিল করবে প্রসিকিউশন। রোববার (৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এ তথ্য জানান। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরও প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, তারা সাজার মেয়াদ বাড়াতে আপিল করবে।

বিজ্ঞাপন

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ওই সাজা পর্যাপ্ত নয় মনে করায় তা বাড়াতে আপিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ দেওয়া হয়। আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, তৃতীয় অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগেও পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হলেও সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করেন। শুনানি শেষে আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

মামলায় প্রসিকিউশনের ১০ জন সাক্ষী এবং আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষীদের মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী, বিশেষজ্ঞ, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, জব্দতালিকা সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন নথি ও বস্তুগত আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে ইনু বিভিন্ন পর্যায়ে উসকানি, পরিকল্পনা ও দমনমূলক পদক্ষেপে ভূমিকা রেখেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রসিকিউশনের দাবি, পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হন।

বিজ্ঞাপন

রায়ের তৃতীয় অভিযোগে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করে দমন, আটক, নির্যাতন ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ষষ্ঠ অভিযোগে ২৯ জুলাইয়ের জোটের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলার কথা এবং সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট কারফিউ ও কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সঙ্গে ইনুর সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল তাকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ—দুই পক্ষই আপিলের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD