Logo

বিয়ের আশ্বাসে স্মোকিং জোনে ধর্ষণ, ঢাবি শিক্ষার্থীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:০৮
বিয়ের আশ্বাসে স্মোকিং জোনে ধর্ষণ, ঢাবি শিক্ষার্থীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বিচারিক আদালত।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। গত ১২ অক্টোবর রায়টি প্রকাশ করা হয়। এর আগে আপস-মীমাংসার আশ্বাসে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছিলেন আসামি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী সজীব চন্দ্র বণিক এবং ভুক্তভোগীর পক্ষে আইনজীবী শিকদার গুলজার আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন। ভুক্তভোগীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে পরিচয়, এরপর সম্পর্কের সূত্রপাত

মামলার এজাহার ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁর স্মোকিং জোনে ভুক্তভোগীকে নিয়ে ধর্ষণ করেন আসামি। এ সময় গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার এবং সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে আসামির প্রলোভনে ধানমন্ডির একটি হোটেলে যান ভুক্তভোগী। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাঁদের মধ্যে আবারও শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে আসামি ভুক্তভোগীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। বিয়ের বিষয়ে কথা বললে তাঁর পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

পরে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর আপস-মীমাংসার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মেডিকেল পরীক্ষা ও পুলিশের অভিযোগপত্র

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শারীরিক সম্পর্কের আলামত পাওয়া গেলেও তা সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মেডিকেল বোর্ড ভুক্তভোগীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর নির্ধারণ করে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার ষষ্ঠ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।

যেভাবে জামিন পেয়েছিলেন আসামি

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আসামি স্বেচ্ছায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ১০ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তবে পরবর্তী সময়ে ১০ মে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং আপস-মীমাংসার মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাঁকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

তবে পরবর্তী শুনানিতে দেখা যায়, আসামির পরীক্ষা শেষ হলেও আপস-মীমাংসা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে জামিন বহাল রাখার ভিত্তি না থাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

রায়ে বলা হয়েছে, অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বিচারিক আদালত।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD