দুই কিশোরকে ভারতে পাচারের মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজবাড়ীর পাংশায় দুই কিশোরকে অপহরণ করে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখার মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর সশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের আদো মন্ডলের ছেলে মো. রেজাউল মন্ডল (১৮) এবং একই গ্রামের মৃত আতর আলী মিয়ার ছেলে মো. শাহীদুল মিয়া (২৭)। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১০ মে রাত ১০টার দিকে রেজাউল মন্ডলসহ কয়েকজন ভারতে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে মো. ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) এবং তাঁর খালাতো ভাই মো. আজিজুল ইসলামকে (১২) অপহরণ করেন। ফারুক পাংশা থানার বাগদুলী গ্রামে তাঁর নানা মো. সাবিন বেপারীর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। ওই বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
অভিযোগে বলা হয়, অপহরণের পর দুই কিশোরকে মোটরসাইকেলে করে পাংশার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের অপরিচিত দুই ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে একটি পিকআপে করে পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে ট্রেনে তোলা হয়। যাত্রাপথে পানীয়ের সঙ্গে কিছু খাইয়ে তাঁদের অচেতন করা হয়। এরপর ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার ১৭ দিন পর আজিজুল কৌশলে পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যশোর শহরের পালবাড়ীর মুক্তির মোড়ে পৌঁছান। সেখানকার একটি চায়ের দোকানির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে পাংশা থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। তবে ফারুককে ভারতে পাচার করা হয়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ফারুকের বাবা মো. একলাস উদ্দিন মালিথা ২০১২ সালের ২৬ মে পাংশা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারায় মামলা করেন। এতে রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন পাংশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ভূঁইয়া। তদন্ত শেষে রেজাউল মন্ডল ও শাহীদুল মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁরা দুই কিশোরকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আটকে রেখেছিলেন। পরে ফারুককে ভারতে পাচার করা হয়। আর আজিজুল পালিয়ে এসে আদালতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষ্য দেন।
বিজ্ঞাপন
রায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া একই আইনের ১০(১) ধারায় তাঁদের প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাভোগ করতে হবে।








