তথ্য গোপন করে জামিনের চেষ্টা, আইনজীবীসহ ১১ জনকে শোকজ

রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় তথ্য গোপন করে একই আদেশের বিপরীতে তিন দফায় জামিন আবেদন করার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় তিন আইনজীবী, পাঁচ আসামি ও মামলার তিনজন তদবিরকারকসহ মোট ১১ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশের কোনো আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শোকজ পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট আন্না খানম, অ্যাডভোকেট এস এম আব্দুল বাতেন সাকিল ও অ্যাডভোকেট রহিম উদ্দিন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, একই আসামির জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক পৃথক আবেদন করার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। গত রবিবার একটি মামলার শুনানির সময় দেখা যায়, নিম্ন আদালতের একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেগুলো হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চের কার্যতালিকায়ও দীর্ঘদিন ধরে ছিল।
বিষয়টি জানার পর তিনটি আবেদন একত্র করে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন আদালত। বুধবার সম্পূরক কার্যতালিকার প্রথম নম্বর আইটেম হিসেবে মামলাগুলোর একসঙ্গে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে দেখা যায়, পাঁচ আসামির পক্ষে জামিন চেয়ে তিনটি পৃথক আবেদন করা হয়েছে। অথচ প্রতিটি আবেদনের ভিত্তি ছিল নিম্ন আদালতের একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশ। তিনজন পৃথক আইনজীবীর মাধ্যমে এ আবেদনগুলো করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ জানান, হাইকোর্ট বিভাগে একই আসামির ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে একাধিক পৃথক মামলা দায়েরের সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছেন।
তিনি আরও জানান, পাঁচ আসামি, তিন আইনজীবী ও তিন তদবিরকারকসহ মোট ১১ জনকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির পক্ষে কোনো আদালতে জামিন আবেদন না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই আদেশের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আবেদন দায়েরের সঙ্গে যুক্ত তিন আইনজীবীকে আগামী ১৫ দিন হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।








