জুলাই হত্যা মামলায় ফের রিমান্ডে ট্রিপল মার্ডারের সেই মোতাহার

রাজধানীর মৌচাক-মালিবাগের আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামি মোতাহার হোসেনকে (৬৬) জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা মামলায় আবারও রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নতুন করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ নভেম্বর) আগের চার দিনের রিমান্ড শেষে মোতাহারকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে আরও সাত দিন জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে মোতাহারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। এরপর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ের হাজতখানায় রাখা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ডিবি কার্যালয়ের টিএফআই সেলের সহায়তায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে মামলার ঘটনা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় মোতাহার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক তথ্য গোপন করেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ, মোতাহার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের ঘনিষ্ঠজন। ৫ আগস্টের ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে তিনি অর্থের জোগানদাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার, তাদের পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহ এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মোতাহারকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলাটি করেন নিহত জসিম উদ্দীনের স্ত্রী মোছা. ফরিদা। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩০২, ১১৪, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে মোতাহারকে ১৯৬ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানার জসিম উদ্দীন সড়কে ঢাকা ব্যাংকের সামনে গুলিবিদ্ধ হন জসিম উদ্দীন। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।








