Logo

প্রধানমন্ত্রীকে ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনের গুরু’ আখ্যা, হাইকোর্টে রিট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯:৩৮
প্রধানমন্ত্রীকে ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনের গুরু’ আখ্যা, হাইকোর্টে রিট
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের সিটি মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পদে ডা. এ এস এম বদরুদ্দোজার নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনের গুরু’ আখ্যা দিয়ে বই লেখার কারণে আলোচনায় আসা এই ব্যক্তির নিয়োগ আইনসম্মত হয়নি বলে দাবি করেছেন রিটকারী।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করেন কলেজটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও পরিচালক ডা. মোহাম্মদ রিফায়েত উল্লাহ শরীফ। তার পক্ষে রিট দায়ের করেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। শনিবার (৭ নভেম্বর) আইনজীবী রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক দপ্তর স্মারক নম্বর ২০৯৫-৯৯/ক.প. অনুযায়ী ডা. এ এস এম বদরুদ্দোজাকে সিটি মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেয়।

রিটকারীর আইনজীবী জানান, ডা. বদরুদ্দোজা ২০১৫ সালে কলেজে নিজের মালিকানাধীন সব শেয়ার বিক্রি করে দেন। এরপর ২০১৭ সালে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। তার শেয়ারগুলো কিনে নেন বর্তমান রিটকারী ডা. রিফায়েত উল্লাহ শরীফ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২’-এর ১৮(২) ধারায় গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু নিজের সব শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার পর ডা. বদরুদ্দোজার উদ্যোক্তা হিসেবে থাকার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় তাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনের পরিপন্থী বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ডা. রিফায়েত উল্লাহ শরীফ আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ডা. বদরুদ্দোজা তাকে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন বলে রিটকারীর পক্ষের দাবি। পরে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে তিনি গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আইনের ১৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি পর্ষদের অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্য উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে থাকার বিধান রয়েছে। এই আইনি শর্ত পূরণ না হওয়ায় ডা. বদরুদ্দোজার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিটকারী।

বইয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে মন্তব্য

বিজ্ঞাপন

ডা. এ এস এম বদরুদ্দোজার লেখা বইটির নাম ‘বঙ্গবন্ধুর কাল্পনিক সাক্ষাৎকার ও কয়েকটি নিবন্ধ’। এটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ। বইটির বিভিন্ন অংশে দেশের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাদের শাসনামল নিয়ে মন্তব্য রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বইয়ের ৭৮ নম্বর পৃষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে লেখক লিখেছেন, ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনের গুরু যুবরাজ নামে পরিচিত তারেক জিয়া ও তার ছোট ভাই কোকোর বিচার প্রক্রিয়ায় কোন অগ্রগতি নেই।’ একই পৃষ্ঠায় তিনি তারেক রহমানকে বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরের নৈরাজ্যের ‘প্রধান নাটের গুরু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৭৯ নম্বর পৃষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সম্পর্কে লেখক মন্তব্য করেন, ‘তার এই পাহাড়সম অপরাধের শাস্তি তাকেই ভোগ করতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি লেখেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ধ্বংসের নীলনকশা এঁকেছিলেন।

বইটির ১০ ও ৪২ নম্বর পৃষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন লেখক। সেখানে তার চরিত্রে হিংসা ও নৃশংসতার প্রতিফলন দেখার কথা উল্লেখ করে ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া খালেদা জিয়ার সরকারের সময়কার র‍্যাবকে ‘সরকারি খুনী বাহিনী’ এবং বিএনপি সরকারকে ‘নব্য স্বৈরশাসন’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, একই বইয়ে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা : সোনার বাংলার পথিকৃৎ’ শিরোনামে শেখ হাসিনার প্রশংসামূলক একটি নিবন্ধও রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD