১৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেফতার নানা কারাগারে

পুরান ঢাকায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার ৫৮ বছর বয়সী নানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে একটি কাসুন্দির কারখানা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা জীবিকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে থাকেন। তার বাবা সঙ্গে থাকেন না। দুই বোন পুরান ঢাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করত। একই বাড়ির নিচতলায় থাকতেন তাদের নানা।
পরিবারের অভিযোগ, আত্মীয়তার সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ওই ব্যক্তি আগেও শিশুটির সঙ্গে একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছেন। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করার ঘটনাও ঘটেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাড়িতে শিশুটিকে একা পেয়ে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন পরিবারের কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে ছিলেন। শিশুটির এক মামা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মা ও ছোট বোনও সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে বাড়িতে একাই ছিল শিশুটি।
বিজ্ঞাপন
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে রান্নার কাজ শেষ করে শিশুটি নিচতলায় নানার ঘর গোছাতে যায়। ঘর পরিষ্কার করার পর পাশের আরেকটি কক্ষ গুছিয়ে দেওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি শিশুটির হাতে এক হাজার টাকা দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এতে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে গামছা দিয়ে তার মুখ চেপে ধরা হয়। পরে ওড়না দিয়ে দুই হাত বেঁধে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটির শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মুখ ও হাতের বাঁধন খুলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কান্নাকাটি করতে করতে শিশুটি দ্বিতীয় তলায় নিজেদের কক্ষে ফিরে যায়।
বিজ্ঞাপন
কিছুক্ষণ পর ছোট বোন বাড়িতে ফিরলে তাকে নির্যাতনের বিষয়টি জানায় শিশুটি। পরে নিয়মিত পড়াতে আসা গৃহশিক্ষককেও ঘটনাটি জানানো হয়। শিশুটির নিজের মোবাইল ফোন নষ্ট থাকায় গৃহশিক্ষকের ফোন ব্যবহার করে সৌদি আরবে থাকা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনা জানায় সে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) শিশুটির খালা থানায় মামলা করেন। একই দিন ভোর সাড়ে ৩টার দিকে পুরান ঢাকার একটি কাসুন্দির কারখানা থেকে অভিযুক্ত ৫৮ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক সুমন নাথ জানান, ভুক্তভোগী শিশুকে চিকিৎসা, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








