Logo

‘বিশেষ কায়দায়’ নারীদের বশ করেন কবিরাজ, এরপর শারীরিক সম্পর্ক!

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালী
৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮:৩৪
‘বিশেষ কায়দায়’ নারীদের বশ করেন কবিরাজ, এরপর শারীরিক সম্পর্ক!
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে এক কিশোরীর সঙ্গে প্রতারণা, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তাইজুল ইসলাম মুসা নামে এক কথিত কবিরাজের বিরুদ্ধে। ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরী ও তার মাকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কিশোরীর সৎবাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ গত ৩১ অক্টোবর কলাপাড়া থানায় নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। সোমবার (২ নভেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলায় তাইজুল ইসলাম মুসাকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকেও আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউপির মনসাতলীর বাসিন্দা। এলাকায় তিনি ঝাড়ফুঁকের কবিরাজি চিকিৎসক নামে বেশ পরিচিত বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কোনো নারীর দিকে তাকালে তাকে বশ করে ফেলেন এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

অভিযোগে জানা যায়, ওই কিশোরীর সৎবাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদীনাবাগ এলাকায় আব্দুল ওয়াদুদের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তবে ওই কিশোরী রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান।

জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে কিশোরী তার সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ায় বসবাস করছেন। রিয়াজও মাঝেমধ্যে ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে থাকতেন।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী অসুস্থ থাকায় তার পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এরমধ্যে পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর চিকিৎসার নামে তাইজুল নানা কৌশলে কিশোরীকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

একই সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অসংখ্য দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন কবিরাজ মুসা। পরে ধারণকৃত ওই ভিডিও চিত্র ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করেন মুসা। একপর্যায়ে কিশোরী ও তার মা তাইজুল এবং অসিমকে বিয়ের বিষয়ে চাপ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা ভিডিওগুলো মোবাইল ফোন থেকে পেনড্রাইভে নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে কিশোরী ও তার মাকে বিষয়টি চেপে যেতে হুমকি দেন। তা নাহলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ওই পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বাবা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে একাধিক স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, মুসা হুজুরের বিরুদ্ধে অসংখ্য নারীর সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনা রয়েছে। তাদের দাবি, হুজুর তদবির দেওয়ার সময় কোনো নারীর দিকে তাকালে তাকে বশ করে ফেলেন এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে তার এই ঝাড়ফুঁকের আড়ালে তিনি ভয়ংকর নারীলিপ্সুক বলেও অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে কবিরাজ মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে সামনে গিয়ে যোগাযোগ করবেন বলে ফোন কেটে দেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মুসার বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রীর করা একটি মামলাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওসি বলেন, কিশোরীর মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আপত্তিকর দৃশ্যও পুলিশের হাতে এসেছে। সেগুলো যাচাই করে ভিডিওতে থাকা পুরুষ ব্যক্তি মুসা কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD