ক্ষমতায় গেলে কেউ আর চেয়ার ছাড়তে চায় না: সামসুজ্জামান দুদু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩:১৩ অপরাহ্ন, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে কেউ আর চেয়ার ছাড়তে চায় না। তারা জানেও না যে, দেশ পরিচালনা তাদের কাজ নয়। এনজিওদের অত্যাচারে কত মানুষ ফাঁসি দিয়ে জীবন দিয়েছে এটা কি তারা ভুলে গেছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহম্মদ আকরম খাঁ হলে গণতান্ত্রিক জাগ্রত বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ‘দেশের বর্তমান সংকট ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সেমিনার
সামসুজ্জামান দুদু আরো বলেন, ক্ষমতায় গেলে কেউ আর চেয়ার ছাড়তে চায় না। তারা জানেও না যে, দেশ পরিচালনা তাদের কাজ নয়। এনজিওদের অত্যাচারে কত মানুষ ফাঁসি দিয়ে জীবন দিয়েছে এটা কি তারা ভুলে গেছে। অথচ রাজনীতিবিদদের জন্য কখনও কোন মানুষকে ফাঁসি দিয়ে মরতে হয়নি। আপনারা যতই আস্ফালন করুন না কেন শেষ বিচারে রাজনীতিবিদদের হাতেই দেশ নিরাপদ। দেশের মানুষ নিরাপদ। এজন্য তিনি জোড় দিয়ে বলেন, আপনারা রাজনীতিকে ছোট করবেন না। রাজনীতিবিদদের ছোট করবেন না। করলে মূলত স্বৈরাচারদেরকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়। রাজনীতিবিদরাই তৈরী করেছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। এরশাদ এর পতনও তারা নিশ্চিত করেছে। সংবাদ পত্রের স্বাধীনতাও তারা ফিরিয়ে দিয়েছে। একইভাবে চব্বিশের আন্দোলনও সফল হয়েছে রাজনীতিবিদদের জন্যই।
এ সময় তিনি বলেন, আপনারা এতো কথা বলেন আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব কি আপনাদের চোখে পড়ে না? আরেকজন নেতা পুরো জীবন কাটিয়ে দিলেন দেশের পক্ষে কথা বলে। তার ত্যাগ কি আপনাদের চোখে পড়ে না? তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন রাজনীতিকে ছোট করবেন না। রাজনীতিবিদদের ছোট করবেন না। আন্দোলনকারীদের ছোট করবেন না। তাহলে দেশ থাকবে না। তিনি আওয়ামীলীগের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন ভারত ভারতেও জায়গায় থাকুক, বাংলাদেশকে বাংলাদেশের জায়গায় থাকতে দিন। স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতকে টেনে আনবেন না। ক্রীতদাসের শাসন এদেশের মানুষ বরদাস্ত করবে না। ১৭ বছর দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছে। দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে তারা মাস্টারমাইন্ড হয় কিভাবে। একটা বিশেষ গোষ্ঠী এক মাসের আন্দোলনকে পুঁজি করে কৃতিত্ব নিতে চায়। তারা তাদের অতীত এবং ভবিষ্যত দেখতে পায় না। ইউনূস সাহেব তাদের পাল্লায় পড়েছেন। এজন্য তিনিও অতীত এবং ভবিষ্যত দেখতে পান না। তিনি এক মাসের মধ্যে আটকে থাকতে চান। তার পেছনে যেতে চান না। তিনি বলছেন ছাত্ররা তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। কিন্তু তার আগে যে ১৭ বছর ধরে দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন হয়েছে সেটা একবারও তার মনে আসে না। একটি ছেলেকে তিনি স্বৈরাচার পতনের মাস্টার মাইন্ড বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সে যদি এক মাসে এতোবড় পরিবর্তন করে দেখাতে পারে তাহলে কেন সে ছয় মাসেও জিনিস পত্রের দাম কমাতে পারছে না? আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না? সে কেন আইনশৃংখলা বা খাদ্যের মাস্টারমাইন্ড হতে পারছে না। দেশের মানুষের আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য অথচ তারা নিজেরেই এখন গণতন্ত্রের জন্য বড় বাধা। যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন হোক তারা সেটা হতে দিতে চায় না। তিনি একটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আপনারা ব্যাংক দখল করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় দখল করেছেন, ভবন দখল করেছেন, হাট বাজার দখল করেছেন। বিএনপি তো কিছুই দখল করে নাই। তারপরও আপনারা বিএনপির দুর্নাম করে বেড়াচ্ছেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক জাগ্রত বাংলাদেশ এর সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম কলিম ও সঞ্চালনা করেন সৈয়দ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন শাহিন।
আরও পড়ুন: মিথ্যা মামলা থেকে ১১ আইনজীবী খালাস
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন জাসসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, শাজাহান মিয়া সম্রাট, এসএম মিজানুর রহমান, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, রাজু আহমেদ শাহ, হুমায়ুন কবির বেপারী, মতিউর রহমান ডিজেল, ইব্রাহিম হোসাইন, সৈয়দ মোহাম্মদ বেলাল, রমিজ উদ্দিন রুমী, আবু হায়দার মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, এস এম কমর উদ্দিন, সোহেব কোরাইশী, জীবন চৌধুরী, আবু সাইদ প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জবাবদিহিতা একমাত্র রাজনীতিবিদরাই করে থাকে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে মানুষ তাদের কর্মের জন্য প্রশ্ন করতে পারে। আর কোন পেশার লোকদের কাছে তাদের কাজের জন্য জবাব চাইতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক দেশের মূল সৌন্দর্যই হচ্ছে গণতান্ত্রিক নির্বাচন। যারা এই নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছেন তারা মূলত ঠিক কাজ করছেন না। তিনি বর্তমান উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা এখন পর্যন্ত দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে পারেন নাই। বড় বড় কথা না বলে কাজে মনোযোগ দিন। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিন। সামনে রমজান। এই রমজানে যাতে দ্রব্যমূল্যের দাম না বাড়ে সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিন। বাণিজ্য উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দিন তিনি যেন মেঘনা গ্রুপ, কাজী ফার্ম, গাজী গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, ফ্রেশ গ্রুপ, প্রাণ গ্রুপ এদের সাথে আলাপ আলোচনা করে বাজারদর ঠিক করে দিতে পারে। তিনি নাগরিক কমিটির উদ্দেশ্যে বলেন তুরস্কের এ কে পার্টি, ভারতেও আমআদমি পার্টি এবং পাকিস্তানের তেহেরী ই ইনসাফ এর আদলে দল গঠন করতে চান। দেশের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা মানুষ আপনারা। দেশের রাজনীতির স্বার্থে কেন পরদেশের রাজনৈতিক দলের অনুসরণ করতে হবে। তিনি সেনা প্রধানের উদ্দেশ্যে বলেন ৬শ ২৬ জন নেতা আপনাদের হেফাজতে ছিল। তারা এখন কোথায় গেল ? তাদের অন্যায়ের বিচার না হলে এবং শাস্তি না দিলে শহীদদের সাথে বেঈমানি করা হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দসু সালাম আজাদ বলেন, মানুষের আশা ছিল স্বৈরাশাসনের পতনের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করবে অথচ সরকার নির্বাচনের দিকে না গিয়ে নানারকম তালবাহানা করছে। আজ একটি দল স্থানীয় নির্বাচন চান। অথচ মানুষ জীবন বাজি রেখেছে একটি জাতীয় নির্বাচনের জন্য। তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন আপনাদের জন্য এরশাদের স্বৈরশাসন দীর্ঘায়িত হয়েছে। আজও আপনারা গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কথা বলছে। ১৯৭১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সকল রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির জন্য আপনারাই দায়ী।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের রহমতুল্লাহ বলেন বর্তমান সরকার রক্তের বিনিময়ে আসা সরকার। অথচ দাবী ছিল মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। অথচ ভোটের কথা বললেই তাদের ভ্রু কুঁচকে যায়। প্রফেসর ইউনুস একজন বিশ্বব্যক্তিত্ব। তার কাছ থেকে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চাইতে হবে কেন।
প্রজন্ম একাডেমির সভাপতি কালাম ফয়েজী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এক মাসের চেষ্টার ফসল নয়। এখানে রয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছরের বিশাল ত্যাগ ও রক্তক্ষরণ। ভারতবর্ষকে বৃটিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য শতবর্ষ ব্যাপি আন্দোলন করতে হয়েছে।
আরএক্স/