তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন এই ঘটনা বিনিয়োগকারীদের জন্য “কনফিডেন্স বুস্টার” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা একটি স্পষ্ট সংকেত যে দেশ ধীরে ধীরে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এটি বাংলাদেশের বিনিয়োগ বান্ধবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপনে সহায়ক হবে।
চৌধুরী আশিক বিন হারুন আরও উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হয়েছে জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে। এই চুক্তি ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্ক সরবরাহ করবে।
আরও পড়ুন: ৩ বিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিজ্ঞাপন
তিনি তিনটি প্রধান কারণে এ চুক্তিকে অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখেছেন:
১. জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
জাপানি বিনিয়োগকারীরা এমন ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে পরিচালনা করতে পছন্দ করে যা পলিসি কনটিনিউটি, লিগ্যাল জুরিসডিকশন এবং অন্যান্য নিয়ম-নীতি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে। এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ, বৈচিত্র্য এবং গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ খাতগুলোর মধ্যে আইটি ও ডিজিটাল সেবা, লজিস্টিকস, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষি/অ্যাগ্রো-প্রসেসিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
বিজ্ঞাপন
২. জাপানে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার
চুক্তির প্রথম দিন থেকে বাংলাদেশের পোশাকসহ ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন। একইভাবে, জাপান ১,০৩৯টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত পাবে। সেবা খাতে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিজ্ঞাপন
৩. সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি
এফটিএ ও ইপিএ সম্পর্কিত আলোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংযোগে সক্ষম করবে। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, তুরস্কসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিডা চেয়ারম্যান আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৫ সালে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে যে ধাপগুলো নেওয়া হয়েছে, আগামী সরকার এই প্রক্রিয়া থেকে উপকৃত হবে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
বিজ্ঞাপন
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা উভয়কে সহায়তা করবে।








