৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা তুলতে পারছেন টাকা, লেনদেন স্বাভাবিক

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করতে পারছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। একই সঙ্গে ব্যাংকের আমানতকারীরাও তাদের জমা রাখা টাকা উত্তোলন করতে সক্ষম হচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শাখায় খোঁজ নেওয়া হলে জানা গেছে, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা নতুন ব্যাংকের শাখাগুলোতে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। অনেক শাখায় ইতিমধ্যেই নতুন ব্যানার ও সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ গ্রাহকরা টাকা জমা দিতে পারবেন এবং আমানত বিমার আওতায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তোলার সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন পরে অর্থ উত্তোলন করতে পেরে অনেক আমানতকারী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার গ্রাহক আসিফ রহমান বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর টাকা তুলতে পেরে খুব ভালো লাগছে, এই অর্থ আমার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত করেছে, যেসব গ্রাহকের হিসাবের আমানত দুই লাখ টাকা পর্যন্ত, তারা একবারে পুরো টাকা তুলতে পারবেন। দুই লাখ টাকার বেশি আমানত থাকলে প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত উত্তোলন সম্ভব। ৬০ বছরের বেশি বয়সী বা গুরুতর রোগে আক্রান্ত গ্রাহকদের জন্য মানবিক বিবেচনায় প্রয়োজনমতো অর্থ তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে।
একীভূত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঁচ ব্যাংকের সব চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং পূর্বের চুক্তি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, গ্রাহকদের জমা টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে এবং আগের মতোই স্বাভাবিক লেনদেন সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া, আগের ব্যাংকের নামে থাকা সব চেক, ডিপোজিট স্লিপ, ভাউচার ও অন্যান্য ব্যাংকিং দলিল নতুন ব্যাংকে বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন কোনো কাগজপত্র নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার স্থায়ী ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানত মূলধনে রূপান্তর করা হবে। নতুন ব্যাংকটি ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা পরিচালনা করবে, যাদের বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: ৩ বিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে দেশের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ নিয়ে ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকায় একাধিক শাখা এক বা দুইটি করা হবে। ব্যাংকের পরিচালন খরচ কমানোর জন্য কর্মীদের বেতন-ভাতা ২০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।
এই নতুন রেজল্যুশন ও ব্যাংক গঠন প্রক্রিয়া ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার এবং আমানতকারীর আস্থা পুনঃস্থাপন করার জন্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।








