Logo

রমজানের আগেই অস্থির বাজার, মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৯:১৩
রমজানের আগেই অস্থির বাজার, মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র এক মাস পরই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)। প্রতিবছর রোজার আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উদ্যোগের কথা জানানো হলেও বাস্তব বাজারে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যায় না। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। রমজান ঘিরে বাজারে আগাম চাপ পড়তে শুরু করেছে, যার ইঙ্গিত মিলছে চাল, ডাল, চিনি ও মুরগির সাম্প্রতিক দামের গতিপ্রকৃতিতে।

বিজ্ঞাপন

বাজারে আমন মৌসুমের নতুন চাল আসতে শুরু করলেও পুরোনো চালের দাম উল্টো বেড়েছে। বেশিরভাগ মানের চালেই কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একইভাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডালজাতীয় পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। কয়েক মাস ধরে তুলনামূলক কম দামে থাকা চিনিও আবার শত টাকার ঘর ছাড়িয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মাঝারি চাল— যেমন বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও পাইজাম— কেজি প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একই মানের পুরোনো চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত। মিনিকেট চালের দাম আরও বেশি। মান ও ব্র্যান্ডভেদে এসব চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে শুরু করে ৮৬ টাকা কেজি দরে, যা মাত্র ৮–১০ দিন আগেও ৪–৫ টাকা কম ছিল।

বিজ্ঞাপন

মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩–৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩–৮৪ টাকায়। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ড মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর তুলনামূলক উন্নত মানের মোজাম্মেল মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ১–২ টাকা বেড়ে ৮৫–৮৬ টাকায় পৌঁছেছে।

নাজিরশাইল চালের বাজারেও একই চিত্র। দেশি নাজিরশাইল চাল মানভেদে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৭০ থেকে ৮২ টাকার মধ্যে। আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দামও কেজিতে প্রায় ৩ টাকা বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, আউশ ও আমনের নতুন চাল বাজারে এলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই পুরোনো চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রমজান শুরু হলে চালের বাজারে আরও চাপ পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

চালের পাশাপাশি রোজার আগে চিনি ও ডালের বাজারও বাড়তির দিকে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে চিনির কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর খোলা চিনির দাম এক সময় ৯০ টাকায় নেমে এলেও সম্প্রতি পাইকারি পর্যায়ে মূল্য বাড়ায় খুচরা বাজারে আবার কেজি ১০০ টাকার ওপরে উঠেছে। বর্তমানে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০০ টাকায়, আর প্যাকেট চিনি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি।

ডালজাতীয় পণ্যের মধ্যে অ্যাংকর ডালের দাম এক সপ্তাহেই কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। এখন এটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, যেখানে আগে দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। ছোট দানার মসুর ডালের দামও কিছুটা বেড়ে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি হয়েছে। তবে মোটা দানার মসুর ডাল এখনও তুলনামূলক কম দামে, কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কয়েক মাস ধরে সহনীয় থাকা মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে এখন ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি জাতের মুরগির দাম আরও বেশি— কেজি প্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

সব মিলিয়ে রমজানের এক মাস আগেই নিত্যপণ্যের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ না নেওয়া হলে, রোজার মাসে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD