সবজি ও ডিমের দাম কমলেও নাগালে নেই চাল-ডাল

শীতের ভরা মৌসুমে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাজারজুড়ে নানা ধরনের শীতকালীন সবজি থাকায় দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও বেশির ভাগ সবজিই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল ও ডালের বাজারে বেড়েছে চাপ। চিকন চাল ও ছোট দানার মসুর ডালের দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের দাম আগের মতোই চড়া এবং মুরগির বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে মিনিকেট চাল খুচরা পর্যায়ে মানভেদে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮৮ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল ৭৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে চিকন চালের দাম কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে ছোট দানার মসুর ডালের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় উঠেছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মোটা দানার মসুর ডালে, যার দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, নতুন মৌসুমে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও সরবরাহ পুরোপুরি বাড়ার আগেই পুরনো চালের দাম বেড়ে গেছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার খুচরা চাল বিক্রেতা কামাল হোসেন জানান, গত দুই থেকে তিন সপ্তাহে চিকন চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যদিও মোটা চালের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।
সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। আলু, শিম, মুলা, ওলকপি ও ফুলকপিসহ বেশির ভাগ শীতকালীন সবজি কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় ও ভালো মানের পাকা টমেটো কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মাঝারি মানের টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং কাঁচা টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ প্রতিপিস ৯০ থেকে ১১০ টাকা, শসা কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১৬০ টাকা।
এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটোল ও ঢেঁড়স ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৮০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিপিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা এবং গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
শীত মৌসুমে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় খুচরা বাজারে এক ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের চাহিদা কমে যায়, ফলে দামও কমতে শুরু করে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম নেমে এসেছে ৮ টাকার নিচে।
রামপুরা বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া বলেন, দাম কমলেও বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। বাজারে মাছ ও সবজির জোগান ভালো থাকায় অনেক ক্রেতা ডিম কম কিনছেন।
বিজ্ঞাপন
মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের ভাষ্য, দাম স্থির থাকলেও এই উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
মুরগির বাজারেও বড় কোনো ওঠানামা নেই। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ ও চাহিদা প্রায় সমান থাকায় দামে পরিবর্তন হচ্ছে না। বনশ্রী এলাকার মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চান না, নিয়মিত বাজারে মুরগি আসছে, আবার বড় চাহিদাও নেই।
বিজ্ঞাপন
তবে কিছু ক্রেতা মনে করেন, মুরগির দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বছরের শুরুতে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তখন ব্যবসায়ীরা লোকসান করেননি, এখন দাম কমছে না কেন—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া রয়েছে। কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সামুদ্রিক মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বড় আকারের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে। ইলিশের দামও চড়া—এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতে আসা ক্রেতা আল মামুন বলেন, মাছের বাজারে দরকষাকষির সুযোগ প্রায় নেই। ডিমের দাম কমেছে ভালো কথা, কিন্তু মাছের দামে কোনো স্বস্তি না থাকায় সংসারের বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সব মিলিয়ে শীতের বাজারে সবজি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও চাল, ডাল ও মাছের দামে বাড়তি চাপ এখনো ভোক্তাদের পিছু ছাড়ছে না।








