রোজায় কম মুনাফায় পণ্য বিক্রির ঘোষণা কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের

আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যে কম লাভে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। লেবু, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ট্যাং, গরুর মাংস ও মিনিকেট চালসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। রমজানে বাজারদর সহনীয় রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন। ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তে তিনি সম্মতি জানান।
বিজ্ঞাপন
ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি পিস লেবুর দাম ২ টাকা, প্রতি লিটার তেলে ১ টাকা, প্রতি কেজি চিনিতে ১ টাকা, ছোলায় ২ টাকা, ২০০ গ্রামের ট্যাং প্যাকেটে ৫ টাকা, গরুর মাংসে প্রতি কেজি ৩০ টাকা এবং মিনিকেট চালে প্রতি কেজি ১ টাকা কম নেওয়া হবে।
কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, শ্রীমঙ্গল থেকে ১১–১২ টাকা দরে লেবু কিনে এনে বিভিন্ন মান অনুযায়ী বিক্রি করা হয়। ছোট লেবু ৩–৪ টাকায়, বড় ও ভালো মানের লেবু ১৭ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এখন থেকে প্রতিটি লেবুতে ২ টাকা করে কম নেওয়া হবে। অর্থাৎ ১৭ টাকার লেবু ১৫ টাকায় বিক্রি হবে।
তেল বিক্রেতাদের পক্ষে আখি ইন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ৫ লিটার সয়াবিন তেল বর্তমানে ৯২০ টাকায় বিক্রি করা হয়, যদিও বোতলে উল্লেখিত মূল্য ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি ৫ লিটারে অতিরিক্ত ৫ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনির গায়ে ১০৫ টাকা মূল্য লেখা থাকলেও এতদিন ১০২ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এখন তা ১০১ টাকায় বিক্রি হবে।
ছোলা ব্যবসায়ী গোফরান জানান, ৮০ টাকা দরে ছোলা কিনে ৮৫ টাকায় বিক্রি করা হতো। এখন লাভ ২ টাকা কমিয়ে ৮৩ টাকায় বিক্রি করা হবে।
বিজ্ঞাপন
ট্যাংয়ের ক্ষেত্রে ২ কেজির জার বাজারে ১ হাজার ৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হলেও কারওয়ান বাজারে আগে ১ হাজার ৫৮০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন তা ১ হাজার ৫৬০ টাকায় বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্সের দাম ৩৮৫ টাকা থেকে কমিয়ে ৩৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৩০ টাকা কমিয়ে ৭৫০ টাকায় বিক্রি করা হবে।
চাল ব্যবসায়ীরা জানান, মিনিকেট চাল আগে প্রতি কেজিতে ২ টাকা লাভে বিক্রি করা হতো। এখন ১ টাকা লাভে বিক্রি করা হবে। ফলে মিনিকেট চালের দাম ৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: সোনার দাম আবার বাড়লো, ভরি ২৬১০৪০ টাকা
সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারও ওপর চাপ প্রয়োগ না করে রমজানের নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে তারা মুনাফার একটি অংশ ছাড় দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও আলোচনা করেই বাজারদর সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হবে।








