Logo

বন্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৩২
বন্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার
ছবি: সংগৃহীত

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) তাদের পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। টানা দুই মাস ধরে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলের পর থেকেই রিফাইনারিটির উৎপাদন কার্যক্রম থেমে যায়। পরদিন সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সর্বশেষ কিছু পরিশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন।

তবে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। তাদের দাবি, দেশে পরিশোধিত জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আপাতত চাহিদা মেটানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

ইআরএল-এর কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় অবস্থিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল এবং সংরক্ষণ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করেও কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দিয়ে আর কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সাধারণ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে থাকে। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকেই উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এরপরও মজুত দ্রুত কমতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ নাগাদ ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও আপাতত মজুত থাকায় তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই, তবুও দ্রুত আমদানি স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD