Logo

বিমান-রেল-সড়ক-সেতু খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুন, ২০২৬, ১৭:৫৪
বিমান-রেল-সড়ক-সেতু খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিমান, রেল, সড়ক, সেতু ও নৌপরিবহন খাতের জন্য ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সড়ক ও সেতু খাতে বড় পরিকল্পনা

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে সরকার সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বিজ্ঞাপন

এ লক্ষ্যে মহাসড়ক উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর চার লেনে উন্নীতকরণ, মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালু, পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ জোরদার, প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তোলা এবং ঢাকার যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নিয়ে আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক স্থাপন, পুরোনো বাসের পরিবর্তে ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক বাস চালু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক টোল ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন

রেল খাতকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, বন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক লোকোমোটিভ, কোচ ও ওয়াগন সংগ্রহ এবং সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজন, ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু, ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ও উচ্চগতির রেল যোগাযোগ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণের ফলে এ রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নৌপথ ও বন্দর উন্নয়ন

ব্যয় সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ড্রেজিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে।

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জেটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম শক্তিশালী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিমান ও পর্যটন খাতে গুরুত্ব

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক ও যাত্রী হাবে উন্নীত করা এবং কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পর্যটন খাতের অবদান জিডিপির ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন, পর্যটক আকর্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবা ও কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের কাজও চলমান রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী অর্থবছরে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD