Logo

মালয়েশিয়া-চীন সফরে পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুন, ২০২৬, ১৪:৫৯
মালয়েশিয়া-চীন সফরে পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার একটি সুস্পষ্ট মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৬তম কার্যদিবসে স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ওপর একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে ওই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী।

আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী সেই পরিবর্তনের সূচনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশ সফরে যাত্রা কিংবা দেশে ফিরে বিমানবন্দরে গণসংবর্ধনা গ্রহণের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে এসে প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চর্চায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ভিত্তি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক সফরের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতাই এগিয়ে নিয়েছেন। দেশের সার্বভৌম স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণের প্রশ্নে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

সফরের অর্থনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু শ্রমবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিস্তৃত সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয় সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে তিনি জানান।

চীনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে দেশটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করেনি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান, পররাষ্ট্রনীতি এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক পরিচালনার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনাও তুলে ধরেছে। তার মতে, এই সফর আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি ইতিবাচক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD