৪৭ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ভর্তুকি চায় বিপিসি

সরকারের কাছ থেকে নেওয়া পুরোনো ঋণের দায় ও সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের লোকসান সমন্বয়ে মোট ৪৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
বিপিসির আবেদনে ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত সঞ্চিত ঘাটতি থেকে তৈরি ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার দায় ভর্তুকিতে রূপান্তর অথবা পুরোপুরি অবলোপনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, আমদানি ব্যয়ের তুলনায় কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রির কারণে তৈরি ওই ঘাটতি মূলত ভর্তুকির প্রকৃতির।
নথি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এ দায় নিষ্পত্তির বিষয়ে অর্থ বিভাগ ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। ২০১৭ সালে ভ্যাট বকেয়া পরিশোধের শর্তে বিষয়টি নিষ্পত্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিপিসি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাওনা ভ্যাট পরিশোধ করে। এরপরও ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার দায় ভর্তুকিতে রূপান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিপিসি জানিয়েছে, পুরোনো দায় নিষ্পত্তিতে তারা তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথমটিতে পুরো অর্থকে ভর্তুকি হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তহবিল ও ৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকা লভ্যাংশ—মোট ১৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা—সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ জ্বালানি তেলের মূল্য কাঠামোয় প্রতি লিটারে ১ টাকা যোগ করে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তৃতীয় প্রস্তাবে ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার দায়ের মধ্যে সরাসরি ঋণ হিসেবে দেওয়া ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা এবং লোকসান সমন্বয়ের জন্য দেওয়া ২২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা আলাদাভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। পরের অংশটি বিপিসির উদ্বৃত্ত তহবিল অথবা প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দামে ২ টাকা যোগ করে সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলতি বছরের নতুন লোকসান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে বিপিসির লোকসান দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। গত ২ সেপ্টেম্বর সংসদে দেওয়া জ্বালানি মন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যেও একই পরিমাণ লোকসানের তথ্য উঠে আসে।
বিপিসির হিসাবে, পাঁচ মাসের মধ্যে এপ্রিলে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি ৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। জুনে লোকসান ছিল ৬ হাজার ১৯৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। মার্চে ২ হাজার ২৪৮ কোটি ৩৭ লাখ, মে মাসে ২ হাজার ৬২১ কোটি ২৬ লাখ এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এই লোকসান পূরণে বিপিসি সরকারের কাছে ভর্তুকি চেয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। সর্বশেষ ১৭ আগস্টও এ বিষয়ে আবেদন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগও জুলাই ও আগস্টে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ভর্তুকির জন্য একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভর্তুকি ছাড় হয়নি বলে বিপিসির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক লোকসানের কারণে বিপিসি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা করে লোকসান করছে বলে ২ সেপ্টেম্বর সংসদে জানানো হয়। জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সংস্থাটি নিজস্ব অর্থায়নে আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে এবং পাঁচ মাসে আমদানি ব্যয় মেটাতে বিভিন্ন প্রকল্প ও তহবিলের অর্থও ব্যবহার করেছে।








