Logo

বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুতে বাড়ছে বিনিয়োগ, তৈরি হবে কর্মসংস্থান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৩৫
বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুতে বাড়ছে বিনিয়োগ, তৈরি হবে কর্মসংস্থান
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর কার্যক্রম এগোচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বিজ্ঞাপন

বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে লিজ পাওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অব্যবহৃত শিল্পসম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজেএমসির ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টির লিজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও তিনটির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চলমান প্রক্রিয়ার আওতায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এর আগে গত ১১ আগস্ট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পুনরায় চালুর জন্য প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে বিজেএমসির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেডের ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

বিজ্ঞাপন

এই তিন মিল চালু করতে মোট প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি বন্ধ শিল্পসম্পদ উৎপাদনমুখী ব্যবস্থায় ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ জানান, সংস্থাটির মালিকানাধীন ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের লোকসান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সমস্যার কারণে এসব মিল বন্ধ করে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলস ফেরত পাওয়ার পর লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানিয়েছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো এবং অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যেই বন্ধ মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বন্ধ পাটকল চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতি এবং স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কথাও জানিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা, ঋণ সুবিধা দেওয়া এবং পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হয়েছে।

২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করা হয়। সে সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব মিলের কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়াই এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্য সূত্র: বাসস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD