Logo

কর্ণফুলী ইপিজেডে দুই দশকে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৪১
কর্ণফুলী ইপিজেডে দুই দশকে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) দুই দশকে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই শিল্পাঞ্চলে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ ২০ বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৪১২ গুণ।

বিজ্ঞাপন

বেপজার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ জানান, কেইপিজেডে বর্তমানে ২৫৮টি শিল্প প্লট রয়েছে। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। এসব প্লটে বড়, মাঝারি ও ছোট শ্রেণির মোট ৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি পুরোপুরি বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ বিনিয়োগের এবং আটটি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন। পাশাপাশি ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার ফ্লোর স্পেসজুড়ে আরও পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন কাজ চলছে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের উদ্যোক্তা কেইপিজেডে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরু করার পর ২০০৭ সালের নভেম্বরে কেইপিজেড থেকে প্রথম রপ্তানি শুরু হয়। প্রথম অর্থবছর ২০০৭-০৮ সালে এখান থেকে ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত কেইপিজেড থেকে মোট রপ্তানি হয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বেপজা সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ অর্থবছরে কেইপিজেডের রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ২৩০ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার।

বিজ্ঞাপন

কেইপিজেডের কারখানাগুলোতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, আসবাবপত্র, ব্যাগ, ফ্যাশন পোশাক এবং সেফটি স্যুটসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এসব পণ্যের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য তৈরি করা হয়।

শিল্পাঞ্চলটির কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য ইউরোপীয় বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রেও এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে।

কেইপিজেডের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পণ্যের বহুমুখীকরণ কেইপিজেডের প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিপুল রপ্তানি আয়ের বড় অংশই এসেছে বিশ্বমানের পণ্যের বৈচিত্র্য তৈরির মাধ্যমে। কেইপিজেড বর্তমানে উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ক্রীড়া পোশাক, ক্যাম্পিং তাঁবু, উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্যসহ নানা সামগ্রী সেখানে উৎপাদিত হচ্ছে।

বেপজা চট্টগ্রাম স্টিল মিলস লিমিটেডের পরিত্যক্ত জমিতে কেইপিজেড গড়ে তোলে। একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলের অন্যতম প্রধান কর্মসংস্থানের কেন্দ্র ছিল। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়ে এবং ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উৎপাদনের স্বর্ণযুগে চট্টগ্রাম স্টিল মিলসে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার পর বিশাল শিল্পাঞ্চলটির কর্মচাঞ্চল্যও থেমে যায়।

পরবর্তীতে ওই এলাকায় কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলে আবার শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সময়ে বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল হিসেবে কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কেইপিজেডের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলে নতুন করে শিল্পায়নের কার্যক্রম শুরু হয়।

তথ্য সূত্র: বাসস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD