Logo

স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে: মেয়র

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৫১
স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে: মেয়র
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামকে আধুনিক, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রযুক্তি ও গবেষণার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নগরের যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), অটোমেশন ও ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন ও শিল্পখাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন ‘আইকনেক্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রযুক্তি এখন শুধু কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা শিল্পকারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা মোকাবিলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, নাগরিক সেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের যানজট কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা হবে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন বিষয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্মার্ট শহর বলতে শুধু স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাকে বোঝায় না। নগরের প্রতিটি নাগরিক সেবাকে প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হচ্ছে।

‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী রাস্তা, জলাবদ্ধতা, মশা, বর্জ্য, সড়কবাতি ও পয়োনিষ্কাশনসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা জানাতে পারছেন। অভিযোগের অগ্রগতিও এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে বলে জানান মেয়র।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত আধুনিক এলইডি সড়কবাতি, ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরের সড়কে ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল সরিয়ে পরিকল্পিত অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথাও বলেন মেয়র। এ জন্য মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নগরের সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি যোগাযোগ অবকাঠামো আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হবে বলে জানান তিনি।

জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. শাহাদাত। কোথায় পানি জমছে, কোন এলাকায় ড্রেনেজ সমস্যায় রয়েছে, কোথায় বর্জ্য জমছে কিংবা কোন এলাকায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে—এসব তথ্য দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও অবৈধ পার্কিং শনাক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র।

প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যাগুলো চট্টগ্রামের তরুণ গবেষক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করতে পারেন।

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে বাস্তব সমস্যার সমাধানে গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন মেয়র। যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ, নগর নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে গবেষণার বিষয় হিসেবে নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান বের করার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, বর্তমান সমস্যার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়েও ভাবতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অব থিংস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্মার্ট অবকাঠামোর মতো প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইকনেক্ট ২০২৬-এর সাধারণ সভাপতি ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের সহযোগী ডিন অধ্যাপক ড. শহীদ মো. আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ ফাত্তাহ, অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, আইকনেক্ট ২০২৬ আয়োজনের লক্ষ্য শুধু একটি সম্মেলন করা নয়; গবেষণা, জ্ঞান ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজ, শিল্প ও দেশের অর্থনীতিতে বাস্তব অবদান রাখা। শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং গবেষণার বাস্তব ও বাণিজ্যিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি ও কম্পিউটার ব্যবস্থাসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময় হচ্ছে। এতে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও প্রযুক্তিবিদরা অংশ নিচ্ছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD