২ হাজারের কার্ড দিয়ে ১০ হাজার টাকা কাটার ব্যবস্থা করছে সরকার

সরকার একদিকে ২ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি করছে—এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিউর রহমান।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।
আতিউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাত মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘সরকার মাত্র সাত মাস ক্ষমতায় এসেছে—এই যুক্তিতে জনগণের বিরুদ্ধে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে না। জ্বালানি তেলের দাম কেন বাড়ানো হয়েছে, কার স্বার্থে বাড়ানো হয়েছে, জনগণের কাছে সরকারকে এর জবাব দিতে হবে।’
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এসব কার্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। ২ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষিতেও পড়বে বলে মন্তব্য করেন আতিউর রহমান। তার ভাষ্য, কৃষিকাজে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় দাম বাড়লে সেচ, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এতে কৃষকের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ন্যায্য দাম না পেলে কৃষিকাজে আগ্রহ কমতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষিতে সারসংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, কৃষকদের কার্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সার ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সার নিয়ে ভবিষ্যতে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের ‘সাত মাসের শিশু’ বক্তব্যের সমালোচনা করে আতিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ কোনো শিশুর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়নি। যদি আপনারা শিশু হয়ে থাকেন, তাহলে ক্ষমতায় এলেন কীভাবে?’
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে থাকলে তার সুফল জনগণকে দিতে হবে। অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, দোকান কর্মচারী ও পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু আয় একই হারে বাড়েনি।
সমাবেশ থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও দলীয়করণ বন্ধ এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আতিউর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের গরিবের পেটে লাথি মারা হলে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন।’ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।








