Logo

মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে করিডোর সুরক্ষায় জোর দেবে সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৩৩
মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে করিডোর সুরক্ষায় জোর দেবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর সুরক্ষা, সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘হাতি সংরক্ষণ: বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), আইইউসিএন বাংলাদেশ, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স, অরণ্যক এবং দীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, হাতি সংরক্ষণ শুধু প্রাণীটির সংখ্যা রক্ষার বিষয় নয়। এর সঙ্গে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর, পরিবেশের ভারসাম্য এবং হাতির সঙ্গে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকার বিষয়ও জড়িত।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বন্য হাতির চলাচল বেশি শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে। ২০১৬ সালে দেশে আনুমানিক ২৬৮টি হাতি ছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৪৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়া, বন উজাড়, খাদ্যসংকট, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈদ্যুতিক ফাঁদের মতো বিভিন্ন কারণে মানুষ ও হাতির সংঘাত বাড়ছে বলে জানান মন্ত্রী।

আবাসস্থল থেকে হাতি লোকালয় বা কৃষিজমিতে চলে এলে মানুষ ও হাতি উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংঘাতের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। এ জন্য হাতির করিডোর রক্ষা, আগাম সতর্কতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সংরক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এশীয় হাতির চলাচলের জন্য বিস্তৃত এলাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় হাতি সংরক্ষণ একটি জটিল কাজ। এ কারণে বন অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংরক্ষণ সংস্থা, গবেষক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় হাতি শিকার ও পাচার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এসব এলাকায় নজরদারি বাড়াতে বন অধিদপ্তর ও বিজিবির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা দরকার। সীমান্ত সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার সময় হাতির ঐতিহ্যগত চলাচলের পথ বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি হাতিসহ বড় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

বন্দী হাতির কল্যাণের বিষয়েও গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্দী হাতির লাইসেন্স, সংখ্যা ও অবস্থার যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণের নামে হাতিকে শিকলে রাখা, প্রহার বা নির্যাতনের অভিযোগ এবং সার্কাসসহ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়গুলো আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মানুষের তত্ত্বাবধানে থাকা হাতির জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। ভবিষ্যতে হাতির আবাসস্থল ও করিডোর সুরক্ষা, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সংঘাত কমানো এবং বন্দী হাতির সংখ্যা, অবস্থান, লাইসেন্স ও কল্যাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপদেষ্টা ও বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, পক্ষীবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আলী রেজা খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম।

বিজ্ঞাপন

সভায় আয়োজক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ, সংরক্ষণকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং হাতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD