Logo

আ. লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:২৭
আ. লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বাংলাদেশের সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতকে নিজেদের মধ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ফরেইন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক এক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা ওই ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।

শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন—এমন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই। তবে শেখ হাসিনাকে ঘিরে পরিস্থিতিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা উপলব্ধি করি যে বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। তাই আমরা আশা করি, তারা নিজেরা একত্রে কাজ করে একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবে।’

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান না জানালেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিবাচক ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দেখতে চায় বলে জানান তিনি।

এরপর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন কর্মকর্তা সরাসরি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।’

বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান মার্কিন সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ওয়াশিংটন অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে আমরা কোনো পক্ষ নেব না। তবে এটুকু বলব, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এক অবস্থানে রয়েছে। একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা আল-কায়েদাকে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রস্তুতির কথা জানান। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিস্তারিত না দেখায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য কোনো পক্ষ বেছে নিতে বলা নয়। বরং জাতীয় সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সংবেদনশীল খাতে নিরাপদ বিকল্প তৈরিতে সহযোগিতা করা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি না যে আপনাদের অমুক বা তমুক পক্ষকেই বেছে নিতে হবে। তবে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি–সমর্থিত বিভিন্ন কোম্পানির মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে বিকল্প তৈরি করা কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি) ও সমমনা মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ বিকল্প উপস্থাপনে কাজ করছে বলে জানান মার্কিন কর্মকর্তা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD