বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির ২৪তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

উন্নত প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের আহ্বানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির ২৪তম আন্তর্জাতিক দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে সম্মেলনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. হামিদা খানম। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ছগীর আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী কারিশমা আখতার কথা ও নোশিন তাশফিয়া মুনা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগণকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি তরুণ গবেষকদেরও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
উপাচার্য বলেন, গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর কৌশল তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের নদ-নদী, জলাভূমি, বনভূমি, পাহাড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বিপুল জীববৈচিত্র্য রয়েছে। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন এ বৈচিত্র্য সংরক্ষণে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, রিমোট সেন্সিং, জিআইএস, আণবিক কৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তি জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে এসব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিবেশগত জ্ঞানের সমন্বয় প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেন। গবেষণার মাধ্যমে দেশের প্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি খাদ্য উৎপাদনে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তরুণ গবেষকদের নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির আয়োজনে গত ৯ মে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন স্বাগতা দাস গুপ্তা দিপা, নিলয় পাল, ইমাম মেহেদী হাসান ও রফিকুল ইসলাম।








