Logo

জানুয়ারির ১৩০৬ টাকার এলপিজি অক্টোবরে ১৮৩৭ টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:১৫
জানুয়ারির ১৩০৬ টাকার এলপিজি অক্টোবরে ১৮৩৭ টাকা
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

চলতি বছরের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ১০ মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে অক্টোবরে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারির তুলনায় বর্তমানে প্রতি সিলিন্ডারে দাম ৫৩১ টাকা বা প্রায় ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে এলপিজির দাম চারবার কমেছে এবং পাঁচবার বেড়েছে। এ সময়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ নির্ধারিত দামের ব্যবধান ছিল ৬৩৪ টাকা।

বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে ৫০ টাকা বেড়ে তা হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। মার্চে ১৫ টাকা কমে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৪১ টাকা।

এরপর এপ্রিল থেকে শুরু হয় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি। ওই মাসে এক লাফে ৩৮৭ টাকা বেড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। মে মাসে আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

মে মাসের দামের সঙ্গে জানুয়ারির তুলনা করলে দেখা যায়, মাত্র চার মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়েছিল ৬৩৪ টাকা বা প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে মে মাসের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। জুনে দাম ৫৫ টাকা কমে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা হয়। জুলাইয়ে বড় ধরনের পতনে ৩৫৭ টাকা কমিয়ে দাম নামানো হয় ১ হাজার ৫২৮ টাকায়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সবশেষ অক্টোবরে আবার বড় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। ফলে এক মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। জুলাইয়ের বড় দরপতনের পর তিন মাসে দাম বেড়েছে ৩০৯ টাকা বা প্রায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ।

দুই মাসে কমেছিল ৪১২ টাকা

বিজ্ঞাপন

এলপিজির দামের ওঠানামার চিত্রে সবচেয়ে বড় পতন দেখা যায় মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে। মে মাসে ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে জুলাইয়ে দাম নেমে আসে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসে ৪১২ টাকা বা প্রায় ২১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়।

এরপর আগস্ট ও অক্টোবরে দুই দফা বৃদ্ধির ফলে জুলাইয়ের ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে দাম বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় পৌঁছেছে।

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের বড় পার্থক্য নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। গত মাসে ১২ কেজি এলপিজির সরকার নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে বিভিন্ন এলাকায় তা ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অক্টোবরে নতুন দাম ঘোষণার আগেও কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এমনকি বেশি দাম দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলপিজির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাসাবাড়ির রান্নার খরচে। বিশেষ করে পাইপলাইনের গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় যেসব পরিবার নিয়মিত বোতলজাত এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, তাদের মাসিক ব্যয়ে এর প্রভাব আরও বেশি পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বিইআরসি

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে বিইআরসি।

রোববার সকালে বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে সেপ্টেম্বরে তাদের এলপিজি বিক্রির পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও তদারকি করা হচ্ছে। নতুন দাম ঘোষণার পর আরও কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

‘জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে’: ক্যাব

বিজ্ঞাপন

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এলপিজির দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, দাম বাড়ানোর আগে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। এরপর সরকার বাধ্য হয়ে দাম বাড়িয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাহাজভাড়া বা উৎপাদন খরচ কতটা বেড়েছে যে ২৫২ টাকা দাম বাড়াতে হলো। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় এক হাজার টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ক্যাব সভাপতির দাবি, সরকারকে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সাধারণ ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD