Logo

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় একলাফে ৫ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:৩২
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় একলাফে ৫ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়। দিনের একপর্যায়ে ব্রেন্টের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন

তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগকে দেখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, জাহাজটি একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতের শিকার হয়েছে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এর পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কাও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসন ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে পেন্টাগনকে কাজ করতে বলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে কমে এসেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর এই জলপথ দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। ওই পথে অপরিশোধিত তেল পরিবহনও আগের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কমে দৈনিক ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলেও তেল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটলান্টিকের প্রথম হারিকেন হিসেবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ইসাইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় তেল ও গ্যাস স্থাপনায় কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে কয়েকটি বড় কোম্পানি। এরই মধ্যে মার্কিন উপসাগরীয় অঞ্চলের এক-চতুর্থাংশের বেশি তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির ব্যয় বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তেলের বাজারের অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যে বন্ড ও শেয়ারবাজারেও পড়েছে। যুক্তরাজ্যের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ৫ দশমিক ৫১৫ শতাংশে উঠেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। ফ্রান্স ও জার্মানিতেও দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে।

এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারেও একই সময়ে দরপতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচক কমেছে। বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের কারণে পণ্য পরিবহন খরচও বাড়তে পারে। এরই মধ্যে শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জরুরি ফুয়েল সারচার্জ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় ঝড়ের প্রভাব কেবল জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD