Logo

সবজির বাজারে আগুন, স্বস্তি শুধু পেঁপে-মিষ্টি কুমড়ায়

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৭
সবজির বাজারে আগুন, স্বস্তি শুধু পেঁপে-মিষ্টি কুমড়ায়
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও দামের চাপে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। শিম, ফুলকপি, মুলা ও ঢ্যাঁড়সের মতো সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে। কোথাও কোথাও টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে শুধু পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় বড় কোনো পরিবর্তন নেই। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন চিত্র দেখা গেছে।

শীতের আগাম সবজিতে বাড়তি খরচ

বিজ্ঞাপন

বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়শ কিনতেও ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ৮০ টাকা করে। অন্যদিকে আগাম শিমের কেজি ১৬০ টাকা এবং টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

তুলনামূলক কম দামে মিলছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুলকপির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। লাউয়ের আকারভেদে দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কচুমুখি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সবজির সামগ্রিক উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা রবিউল আলম বলেন, বাজারে টমেটো প্রতিকেজি ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসা কিনেছি ১০০ টাকা কেজি। শিম ১৬০ টাকা কেজি কিনেছি।

বিজ্ঞাপন

মুরগি ও মাংসের দামে বড় পরিবর্তন নেই

সবজির পাশাপাশি মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারেও দামের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দোকানভেদে সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে আছে। ১০ টাকা কমে আবার অন্য সপ্তাহে ১০ টাকা বাড়ে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২০০ টাকা আশেপাশে দাম থাকে। আর সোনালি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্য থাকে। আজকে ৩১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমেছে ডিমের দাম

মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। আগের তুলনায় প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। চারটি ডিমের দাম রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

মাছের বাজারে আগের দামই বহাল

রাজধানীর মাছের বাজারে বেশির ভাগ মাছের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায়। চিংড়ির দাম আকার ও মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ ছাড়া পাবদা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভেটকির দাম ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

দেশি কই বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায়। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে।

মাছের আকার, জীবিত বা মৃত অবস্থা এবং মানের ওপর দাম নির্ভর করছে। বাজারভেদেও প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

মাছ বিক্রেতা আযাদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজকে রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ টাকা বিক্রি করছি। শুক্রবার দাম একটু বেশি থাকে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি কিনতে গিয়ে বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া তুলনামূলক সস্তা হলেও অন্যান্য সবজির চড়া দাম ক্রেতাদের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD