বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ পর্যায়। একই সঙ্গে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৩ দশমিক ৯৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়ায়। গত ১৯ মে-র পর এটিই এ তেলের সর্বোচ্চ দর।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পর এটিই এ তেলের সর্বোচ্চ মূল্য বলে বাজারের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাপ্তাহিক হিসাবেও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
বাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাস্পেক্টস চলতি সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিশ্লেষণী নোটে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার গুঞ্জন ও আশঙ্কার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বাজারে প্রাথমিক দরপতনের পর ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় এবং ঊর্ধ্বমুখী হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়লে তেল উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ, পণ্য উৎপাদন ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে।
বিজ্ঞাপন
তথ্য সূত্র : আল জাজিরা








