Logo

চা শিল্পের সংকট কাটাতে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫
চা শিল্পের সংকট কাটাতে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
চা শিল্প | ফাইল ছবি

দেশের চা শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো, রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি এবং আর্থিক সংকটে থাকা বাগানগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনায় সহজ শর্তে ঋণ, সুদের হার কমানো, পুরোনো চা গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনাবাদি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ও টেকসই করতে বাগানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে আলোচনায় থাকা ঋণসুবিধা ও সুদ কমানোর প্রস্তাবগুলোর কয়েকটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য

গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিল্পটির উৎপাদন, আর্থিক সংকট, রপ্তানি এবং বিকল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ চা বর্তমানে দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদনের অবশিষ্ট অংশ রপ্তানি করা হচ্ছে। তাই প্রথমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ এবং পরবর্তী সময়ে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য উৎপাদন বাড়ানো ও চায়ের গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদকেরা সবুজ চা, অর্থোডক্স চা, সাদা চা ও সিটিসি পদ্ধতিতে তৈরি কালো চাসহ বিভিন্ন ধরনের চা উৎপাদন করছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন কোম্পানি চায়ের মিশ্রণ ও স্বাদে বৈচিত্র্য এনে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা চালানোর পাশাপাশি উৎপাদন পদ্ধতি, চায়ের মিশ্রণ তৈরি এবং রপ্তানি উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পুরোনো চা বাগান আধুনিকায়নে গুরুত্ব

কমিটির সভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানের মোট আয়তন ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৬ একর। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ একর চাষযোগ্য জমি হিসেবে চিহ্নিত। নার্সারিসহ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ একর জমি অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য ১৬ হাজার ৯২৮ একর জমি অবশিষ্ট রয়েছে।

তবে বিকল্প বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে জমির বর্তমান ব্যবহার, বাগান পরিচালনা এবং পরিবেশগত প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালে দেশে মোট ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২৩ হাজার কেজি। ওই বছর দেশে প্রতি হেক্টরে গড় চা উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৫৫২ কেজি।

উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও অনেক বাগানের চা গাছের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর কিংবা তারও বেশি। পুরোনো গাছের পরিবর্তে পর্যাপ্ত নতুন গাছ লাগাতে না পারা, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি ব্যয় শিল্পটির ওপর চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার তুলনায় উৎপাদনশীলতার ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, চা খাতের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

বিজ্ঞাপন

তাঁর মতে, শুধু ঋণের ওপর নির্ভর করে চা শিল্পের স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাগানগুলোকে এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে, যাতে তারা নিজস্ব আয় দিয়ে কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি রাজস্ব, কর ও মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।

খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ

চা শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা হলো ঋণের বোঝা। কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ১৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১৩৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে বকেয়া ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১ হাজার ৮২৬ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

একই প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মন্দ ঋণ রয়েছে ২১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। পুনঃতফসিল করা ঋণের পরিমাণ ৫১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

এই আর্থিক চাপের কারণে অনেক বাগানের পক্ষে উৎপাদন বাড়ানো ও নতুন বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং যোগ্য বাগানকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়টি সভায় আলোচিত হয়েছে।

এ ছাড়া চা উৎপাদন ও বিনিয়োগে সহায়তার জন্য ৬ শতাংশ সুদে একটি আবর্তক তহবিল গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান ১৮ হাজার কোটি টাকার আবর্তক পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি থেকে ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ অর্থ থেকে ঋণগ্রহীতাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন।

চা খাতের জন্য প্রস্তাবিত ৬ শতাংশ সুদের আবর্তক তহবিল এবং বিদ্যমান পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি থেকে অর্থ বরাদ্দের বিষয় দুটি আলাদা উদ্যোগ। এখনো কোনোটিকেই চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত সুবিধা হিসেবে কার্যকর করা হয়নি।

এ ছাড়া চা উৎপাদনের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের হার বর্তমান ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে নামানোর প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টাসহ কয়েকটি ফসলের জন্য প্রযোজ্য রেয়াতি সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চা চাষে কৃষিঋণের সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা

চা চাষকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে। এ স্বীকৃতি পাওয়া গেলে চা উৎপাদকেরা কৃষি খাতের জন্য প্রযোজ্য রেয়াতি ঋণসুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ড এ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, চা উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে চারা রোপণ, গাছের পরিচর্যা, ছাঁটাই ও পাতা সংগ্রহ। এসব কাজ মূলত কৃষিকাজের অন্তর্ভুক্ত। বাকি ৪০ শতাংশ কার্যক্রম শিল্পভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রস্তাবটির বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় আপত্তি জানিয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এ চা প্রক্রিয়াজাতকরণকে শিল্প কার্যক্রম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

ফলে চা খাতকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঋণসুবিধা চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

চা বাগানের যেসব জমি চা চাষের উপযোগী নয়, সেসব জায়গায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি বাগানের বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চা কোম্পানিগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় চা বাগানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সামনে এসেছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিভিত্তিক বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে কমিটি। বিশেষ করে চা উৎপাদন এলাকা এবং হাওর অঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চা বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বিকল্প বনায়ন, কৃষিকাজ ও অন্যান্য আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবও এসেছে। জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোগ এবং নেট মিটারিংয়ের মতো ব্যবস্থার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষায়িত চা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান শক্তিশালী করতেও নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ১৬ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কেজি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

আরও পড়ুন

দেশীয় চাহিদার প্রায় পুরোটাই স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশেষায়িত চায়ের উৎপাদন, ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।

অর্থোডক্স ও অন্যান্য বিশেষায়িত চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্সের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জনের উদ্যোগ বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন ধরনের চা উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দূতাবাস ও রপ্তানিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করে নতুন বাজার খুঁজে বের করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সমন্বিত পরিকল্পনায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা

চা শিল্পের উন্নয়নে শুধু ঋণসুবিধা বাড়ানো নয়, বাগানগুলোর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, উৎপাদনক্ষমতা এবং নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটি। প্রতিটি বাগানের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অর্থায়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে চায়ের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পুরোনো বাগানের আধুনিকায়ন, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির পথ খুলতে পারে। পাশাপাশি বিশেষায়িত চায়ের রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চা শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্য সূত্র : বাসস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD