দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে যা জানা গেলো

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৩০৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ীও রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
আইএমএফের ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬ (বিপিএম-৬) পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫০১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৪ অক্টোবর দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১৯৩ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। ওই সময় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ হিসাবের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ১৪ অক্টোবরের পর থেকে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ১১৬ দশমিক ০৯ মিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রচলিত গ্রস হিসাব এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরূপিত—উভয় ধরনের রিজার্ভেই বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মূল্যায়নে গ্রস ও বিপিএম-৬ হিসাবের পাশাপাশি নিট রিজার্ভের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে মোট রিজার্ভ থেকে সংশ্লিষ্ট স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে নিট রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয়।
নিট রিজার্ভের পরিমাণ একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনা, আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে প্রকাশিত রিজার্ভের পরিমাণ এক নয়; হিসাবের পদ্ধতি ও অন্তর্ভুক্ত উপাদানের পার্থক্যের কারণে এ ব্যবধান তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক লেনদেনের সক্ষমতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তবে রিজার্ভের সামগ্রিক অবস্থান বুঝতে এর ধারাবাহিক প্রবণতা, বৈদেশিক মুদ্রার আয়-ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ পরিশোধের দায়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।








