আবারও বাড়লো এলপিজির দাম, ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ

বাজারে অস্থিরতার মধ্যে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অর্থাৎ, এক ধাপে দাম বেড়েছে ২২৩ টাকা।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
সোমবার (২ অক্টোবর) এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। রাত ৮টা থেকে এ দাম কার্যকর হওয়ার কথা। তবে গত মাস থেকেই কমিশনের নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অক্টোবর মাসে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলেও রাজধানীতে তা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়।
একই আদেশে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে অটোগ্যাসের প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা। পাশাপাশি বিক্রেতাদের কমিশনও বাড়িয়েছে বিইআরসি।
বিজ্ঞাপন
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানিকারকদের মজুত ও বোতলজাতকরণ চার্জ—অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ—১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই এলপিজির বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কথা জানিয়ে আমদানিকারকেরা সরবরাহ কমিয়ে দেন। এতে ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কোনো কোনো এলাকায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে থাকে।
রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি দাম ৬৪ ডলার বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পাঁচটি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় বিক্রি বন্ধ করে দেয়। নতুন দামে বিক্রির জন্য তারা হাজার হাজার টন এলপিজি মজুত করে রাখে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার টন। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এলপিজি খাতের সংকটের কথাও উল্লেখ করা হয়। তখন বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও কোনো আমদানিকারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকেরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এর আগে সংকটের সময় আমদানিকারকদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমদানির সীমা বাড়ানো, কর কমানো এবং এলসি ঋণ সুবিধার পাশাপাশি জাহাজভাড়া বা ফ্রেইট চার্জ টনপ্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার করা হয়। আমদানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগের পরও বাজার নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেয় বিইআরসি। তখন জানানো হয়েছিল, সৌদি আরবের দর ওঠানামার সঙ্গে ভিত্তিমূল্য সমন্বয় করা হবে। তবে অন্যান্য কমিশন, জাহাজভাড়া এবং আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন করে গণশুনানি নেওয়া হবে। এরপর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করে আসছে কমিশন। এ সময়ে দুই দফায় কমিশনও বাড়ানো হয়েছে।
সর্বশেষ ২৯ অক্টোবর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়া এবং বিইআরসির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ভোক্তারা প্রশ্ন তোলেন। পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারাও আমদানিকারকদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করেন। শুনানিতে এলপিজি আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।








