Logo

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তেলের বাজারে স্বস্তি, কমল দাম

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ২২:১৪
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তেলের বাজারে স্বস্তি, কমল দাম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়।

বিজ্ঞাপন

সকাল ৯টা নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১০৯ ডলার ২৩ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০০ ডলার ১৪ সেন্টে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান ও কাতারের কর্মকর্তাদের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চলার খবর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রোববার দোহায় আলোচনা শেষে ইরানের প্রতিনিধিরা ফিরে গেলেও এতে কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে পরামর্শ করতেই বৈঠক করছেন তিনি। একই সঙ্গে তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রতিরক্ষা—দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা না বাড়ায় তেলের দামে সাময়িক স্বস্তি এসেছে। তবে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মজুত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে মজুত থেকে প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা অবশ্য তেলের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। সরবরাহ ঝুঁকি বাড়তে থাকায় রোববার গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল কম থাকলে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচলে হামলা, জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং তেল সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার খবরে আপাতত দাম কমলেও জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: রয়টার্স

 

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD