Logo

ঘুষের টাকা বাঁচলে শ্রমিকদের ৪০ হাজার বেতন দিতে পারতাম: মাসুদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬:২৬
ঘুষের টাকা বাঁচলে শ্রমিকদের ৪০ হাজার বেতন দিতে পারতাম: মাসুদ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করাতে ব্যবসায়ীদের প্রতিবছর লাখ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তাঁর দাবি, এসব অর্থ দিতে না হলে শ্রমিকদের মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া সম্ভব হতো।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাঁদমারি এলাকায় চেম্বার ভবনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

সভায় ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও বিভিন্ন দপ্তরে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনারা আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন শ্রমিকের কতটাকা বেতন দিতে হয় তা আমরা দিবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানেই কাগজ লাগে সেখানেই টাকা দিতে হয়। এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বছরে লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। এই টাকা তো আমার শ্রমিকদের দিতে পারতাম।’

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক মনে হয়েছে।

মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি, এটা আমাদের বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত এই দেশের সমস্যার সমাধান আমাদেরই করতে হবে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত তিন দিনের ঘটনাপ্রবাহকে নিজের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে একটি মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আগেই অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো মালিক জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে মালিক কিংবা শ্রমিক—কোনো পক্ষের সঙ্গেই এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিকদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব মজুরি বোর্ডের। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে প্রয়োজনীয় সময় ও কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার আগেই প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮টি কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনার পেছনে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধন রয়েছে বলেও তাদের কাছে তথ্য এসেছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য নয় উল্লেখ করে মাসুদুজ্জামান বলেন, সংকট সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত বক্তব্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে শ্রমিক, মালিক এবং দেশের সামগ্রিক শিল্প খাত—সব পক্ষের স্বার্থই সুরক্ষিত থাকত।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD