Logo

রাজনৈতিক নেতাদের বৈশিষ্ট কি একই রকম?

profile picture
কাজী শুভ্র রহমান
২৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৪
রাজনৈতিক নেতাদের বৈশিষ্ট কি একই রকম?
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

দেশে জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যুগে যুগে রাজনৈতিক দল। স্বেচ্ছাচারি বা স্বৈরশাসকের নিপীড়ন থেকে দেশ ও জনগণের মুক্তির লক্ষে প্রয়োজন দেখা দেয় প্রতিবাদ ও আন্দোলনের। আর এই আন্দোলন কোন একক ব্যক্তির পক্ষে করা সম্ভব নয় বলে একক ব্যক্তির উদ্যোগে গঠিত হয় একটি রাজনৈতিক দল।

বিজ্ঞাপন

যেমন পাকিস্তান সরকারের বৈরিতা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে মেনে না নিতে পারায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। তার নেতৃত্ব মেনে নিতে না পারায় শেখ মুজিব গঠন করেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ।

স্বাধীনতা পরবর্তীতে তা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এরপর ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থে প্রতিষ্ঠা করেন বাকশাল তথা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ। জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদি দল তথা বিএনপি। এইচএম এরশাদ প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় পার্টি।

এ ছাড়াও আন্দোলন করতে বামপন্থীরা প্রতিষ্ঠা করেছেন কমিউনিষ্ট পার্টি। অনেকেই প্রতিষ্ঠা করেছেন ইসলামিক দল। উদ্দেশ্য একটায় ক্ষমতায় যাওয়া। শেখ মুজিব নিহত হওয়ার সাথে সাথে দুটি দল বিলুপ্ত হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

১৯৮০ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। অথচ আওয়ামীলীগ পন্থীরা ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা তারিখকে প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে গণ্য করে।

সেই হিসেবে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিগত ২১শে জুন গাজীপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের কর্মীরা মিছিল বের করে। যে পুলিশ কে তারা ব্যবহার করেছে ২০২৪ সালে নিজেদের লাঠিয়াল হিসেবে সেই পুলিশকে লক্ষ করে বলে- সামনে আসবি না খাইয়া ফালামু।

এ গেল আওয়ামী ঘরানার গল্প। এবার সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা উল্লেখ করব পাঠকের উদ্দেশ্যে। বিগত ২১ শে জুন কুষ্টিয়া ২,৩ ও ৪ আসনের সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি মোছা: ফরিদা ইয়াসমিন বলেন আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে যে প্রশাসন, আমাদেরকে পাত্তা দিচ্ছে না তাদের উদ্দেশ্যে বলি এই কুমারখালি খোকশাতে যদি থাকতে হয় তা হলে বিএনপির নেতা কর্মীদের সাথে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি নেতা কর্মীদেরকে নির্যাতন করবেন তা টলারেট করব না। এমপি মহোদয়ের এহেনও বক্তব্য আর যুবলীগ নেতার ‘সামনে আসবি না খাইয়া ফালামু” হুমকির মধ্যে পার্থক্য কতটুকু তা পাঠক নিজেই বুঝে নিবেন আশা করি। আগে শুনেছি ছাত্রলীগ নেতার ধর্ষণ কর্মকাণ্ডের সেঞ্চুরী উদযাপনের কথা। এখন শুনছি বিএনপি কর্মীদের ধর্ষণের কথা।

এখন প্রশ্ন আমরা যারা সাধারণ নাগরিক তারা কবে মুক্ত হব এমন সংস্কৃতি থেকে? আমরা চাই জনকল্যাণমুখী রাজনীতি। আমরা চাই রাহাজানীমুক্ত সমাজ। আমরা চাই বিবেকবান রাজনৈতিক চরিত্র। আমরা চাই সৎ মানুষ এবং সুন্দর সমাজ। এ সব করতে পারে একটি সরকার। কারণ সরকার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD