সৎ সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় নিবন্ধন ব্যবস্থা অপরিহার্য

চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিতে হলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রকৌশলীদের পেশাগত স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজন ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সদস্যপদ। সনদপ্রাপ্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে হলে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের সনদপত্র ছাড়া কোনো পথ নেই। আদালতে আইন পেশায় দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হওয়াও বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পেশাতেই যোগ্যতার সনদ ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যম ব্যবস্থার দিকে তাকালে এক অদ্ভুত ও বৈপরীত্যপূর্ণ চিত্র চোখে পড়ে। যে পেশা সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত, সেই সাংবাদিকতায় ‘কে সাংবাদিক আর কে সাংবাদিক নন’ তা নির্ধারণের সর্বজনগ্রাহ্য কোনো নিবন্ধন বা সনদ প্রদানকারী নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নেই।
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মফস্বল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত তথাকথিত সংবাদমাধ্যমের স্টিকার লাগিয়ে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং এবং মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এখন নিত্যদিনের ঘটনা। নিবন্ধিত কাঠামো থাকলে এই ভুয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করা ও প্রতিহত করা অনেক সহজ হতো।
যেকোনো পেশায় প্রবেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকে। সাংবাদিকতার মতো স্পর্শকাতর পেশায় যুক্ত হতে হলে অন্তত একটি ডিগ্রি এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। এমন বিধান চালু করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে মুক্ত গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার সমর্থকদের একাংশ এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় ধরনের বিপদ বা আশঙ্কা দেখতে পান। তাঁদের মতে, গণমাধ্যম অন্য যেকোনো সাধারণ পেশার চেয়ে ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার প্রদান করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ‘সাংবাদিক’ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে তা সর্বসাধারণের কথা বলার অধিকারকে সংকুচিত করতে পারে।
যদিও মুক্ত গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার সমর্থকদের এই অংশটি অপসাংবাদিকতা বা হলুদ সাংবাদিকতা যে মূলধারার সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকদের মর্যাদা দিন দিন ধূলিসাৎ করছে, সে বিষয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করছে না।
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে যে কেউ ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল বা কোনো তথাকথিত অনলাইন পোর্টাল খুলে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে দাবি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা, নীতি-নৈতিকতার বোধ বা সাংবাদিকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই মোবাইল হাতে সমাজে প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞাপন
এই অপসাংবাদিকতা বা হলুদ সাংবাদিকতা থেকে মূলধারার সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় সাংবাদিকদের নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তির জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠন এখন সময়ের দাবি। এই কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করবে কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে যথার্থই বলেছেন, কে সাংবাদিক আর কে সাংবাদিক নয়, তা নির্ধারণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা দরকার।
খোন্দকার কাওছার হোসেন
বিজ্ঞাপন
সাবেক সহ সভাপতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি








