Logo

কারিগরি শিক্ষার ভিত শক্ত করতে বিসিএস কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ জরুরি

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:১৬
কারিগরি শিক্ষার ভিত শক্ত করতে বিসিএস কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ জরুরি
প্রকৌশলী সোহাইল আহমেদ

একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতি মূলত জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতানির্ভর। দক্ষতার বৈশিষ্ট্য হলো এটি সনদনির্ভর নয়। একটি বিশেষ কাজ নিখুঁতভাবে দ্রুততার সহিত সম্পন্ন করতে সক্ষম ব্যক্তিই দক্ষ। ব্যবহারিক কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা, in-depth knowledge রাখা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে সেই কাজ করতে পারলেই কেবল সে গোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তি বলা যাবে।

বিজ্ঞাপন

একটি দেশের শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ভর করে এই দক্ষ জনশক্তি বা মানবসম্পদের ওপর। আর দক্ষ জনশক্তি তৈরির অন্যতম প্রধান কারিগর হচ্ছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশই ১৫ থেকে ৩৫ বছরের তরুণ। যেটি আধুনিক উন্নয়ন বিশ্বে Demographic Dividend বা জনমিতিক লভ্যাংশ বলেই পরিচিত। এই তরুণদের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলেই দেশের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত তথা সামগ্রিক চিত্র দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা জাপান Standard-এ পৌঁছাবে।

অন্যদিকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ছাড়া এই জনশক্তিই রূপ নিতে পারে জাতীয় সংকটে। সম্প্রতি ২৫ আগস্ট ২০২৬-এ একটি জাতীয় দৈনিকে "জনবহুল দেশ, দক্ষতায় খরা" শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে আসে বাংলাদেশের নাজুক চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে উচ্চশিক্ষিত বেকার এক মিলিয়নের কাছাকাছি যা গত এক দশকের মধ্যে  ৮ গুণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারী দের মধ্যে ২৮ ভাগই বেকার । বিদেশগামী কর্মীদের মাত্র ২৩.৫ শতাংশ দক্ষ। তাছাড়াও গত তিন বছরে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেননি ৯৩.৪%। একই সঙ্গে বর্তমান কর্মীদের ৪০% এর দক্ষতা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলশ্রুতিতে ইউনেস্কো আভাস দিয়ে রেখেছে, ২০৩০ সালে বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বের ২২ শতাংশ কর্মীকে নতুন পেশায় স্থানান্তর হতে হবে। এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে Artificial Intelligence (AI)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির প্রজন্ম, যা ঝুঁকিতে ফেলছে পুরোনো অদক্ষ কর্মীদের। QS Future Skills Index 2025-এর মতে ৮১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৬৭তম অবস্থানে রয়েছে। যা আমাদের সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিগরি শিক্ষায় অনাগ্রহকেই সামনে নিয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

ফলে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণের পাশাপাশি এর গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা ও একাডেমিক নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানো এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়।

দীর্ঘ পথ পেরিয়েছে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা। ১৯৫৫ সালে তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, যা পরবর্তীতে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয়। প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে ডিপ্লোমা পর্যায়ের প্রকৌশল শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ খাত একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করে।

স্বাধীনতার পর শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বও বাড়তে থাকে। পলিটেকনিকসহ বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিস্তার, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকতর সম্পৃক্ততা—সবকিছু মিলিয়ে এ খাত ধীরে ধীরে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু শিক্ষার পরিধি যত বেড়েছে, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও তত জটিল হয়েছে।

Bangladesh Civil Service Recruitment Rules, 1981-এর মাধ্যমে ২৭টি ক্যাডারকে অন্তর্ভুক্ত করে বিসিএস কাঠামোর যাত্রা শুরু হয়। ওই বিধিমালার অষ্টম তফসিলে বিসিএস কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের অন্তর্ভুক্তি থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে এ ক্যাডারে সরাসরি বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার পদে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। বিপরীতে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নিয়মিতভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োগ পেলেও কারিগরি শিক্ষা ক্যাডার সেই ধারাবাহিকতার বাইরে থেকে যায়।

তবে দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ৪৩তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিসিএস (কারিগরি শিক্ষা) ক্যাডারে সরাসরি নিয়মিত ক্যাডার পদে নিয়োগ প্রদান শুরু হয়। এটি বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা।

বিজ্ঞাপন

বিসিএস কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের কার্যক্রম :

কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিসিএস (কারিগরি শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দেশের পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠদান, একাডেমিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক কিংবা প্রকল্প পরিচালক পদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁরা যুক্ত।

ফলে এ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ভূমিকা কেবল একজন শিক্ষক বা বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে শিক্ষক, একাডেমিক প্রশাসক, ব্যবস্থাপক, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এবং অনেক ক্ষেত্রে নীতির মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

এই বহুমাত্রিক দায়িত্ব পালনের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, নীতিমালা বিশ্লেষণ ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের সক্ষমতা।

আধুনিক ল্যাবরেটরি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দক্ষ একাডেমিক নেতৃত্ব:

কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত নতুন ভবন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি ও ওয়ার্কশপের কথা সামনে আসে। এগুলো নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয়। কিন্তু অবকাঠামো ও প্রযুক্তি তখনই কার্যকর ফল দেবে, যখন সেগুলো পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করলেই তার সুফল পাওয়া যায় না। প্রয়োজন সঠিক ক্রয়প্রক্রিয়া, যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর একাডেমিক পরিকল্পনা।

অতএব নবীন কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সরকারি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা:

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (BPATC)-তে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের বাইরেও কৃষি, মৎস্য, পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব, নীতি বিশ্লেষণ, সরকারি ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃক্যাডার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

শিক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম ছাপিয়ে বিসিএস (কারিগরি শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দায়িত্বের প্রকৃতি বিবেচনায় তাঁদের জন্যও এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৪৩তম বিসিএস কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের ৪০ জনের একটি ব্যাচকে প্রশিক্ষণ স্থানের ঘাটতি দেখিয়ে ০৪ মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ করানো হচ্ছে স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণের জন্য উপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত বিয়াম ফাউন্ডেশনে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের দায়িত্বের বহুমাত্রিকতা বিবেচনায় এই প্রশিক্ষণ কাঠামো বা মডিউল কি আদৌ প্র‍য়োজনীয় পাঠদান প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক ও নেতৃত্বগত সক্ষমতা তৈরি করতে যথেষ্ট হবে? সেটি কি কারিগরি শিক্ষায় ভালো ফলাফল বয়ে আনবে?

একজন কারিগরি শিক্ষা কর্মকর্তা যখন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন, তখন তাঁকে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয়, জনবল ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ এবং বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো কাজ করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা অপরিহার্য।

বিজ্ঞাপন

তাই BPATC-এর মতো জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ তাদের পাঠদানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে প্রশাসনিক প্রজ্ঞা, একাডেমিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত দূরদর্শিতার একটি কার্যকর সমন্বয় ঘটাতে পারে।

আন্তঃক্যাডার সমন্বয়: প্রশিক্ষণের একটি বড় সুফল

সরকারি প্রশাসনে কোনো বড় প্রকল্প বা নীতি সাধারণত একক কোনো ক্যাডার বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় না। শিক্ষা, অর্থ, পরিকল্পনা, প্রশাসন, হিসাব, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন হয়।

বিজ্ঞাপন

BPATC-তে বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলে বিসিএস (কারিগরি শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আন্তঃক্যাডার যোগাযোগ, মিথস্ক্রিয়া ও পেশাগত বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হতে পারে।

এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল সরাসরি কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়বে। প্রকল্প প্রণয়ন, প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, ক্রয় কার্যক্রম কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়লে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আরও কার্যকর ও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নবীন কর্মকর্তাদের কারিগরি শিক্ষা উপযোগী করে তোলা:

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের জন্য কারিগরি শিক্ষার আরেকটি বড় সম্ভাবনার জায়গা হলো আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার। দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকার জন্য শুধু সনদ থাকলেই হবে না; প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা। কারিকুলামকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি চালু করা, দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং শিল্পের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রগুলোতে কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব দানের উপযোগী করে তুলতে হবে।

সুতরাং তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধি মানে শুধু একটি ক্যাডারের দক্ষতা বৃদ্ধি নয়; এর সঙ্গে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও যুক্ত। একবারের প্রশিক্ষণ নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন।

বর্তমান প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য পর্যায়ক্রমে পেশাগত উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর মধ্যে থাকতে পারে-

- শিক্ষা নেতৃত্ব ও প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা;

- সরকারি ক্রয় ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট;

- বাজেট ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা;

- প্রকল্প ব্যবস্থাপনা;

- ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল প্রশাসন;

- আধুনিক Pedagogy বা শিক্ষাবিজ্ঞান;

- আধুনিক কারিকুলাম উন্নয়ন;

- ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা;

- আন্তর্জাতিক দক্ষতা মান ও সার্টিফিকেশন;

- চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের প্রবণতা।

এ ধরনের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ একজন কর্মকর্তাকে শুধু বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নয়, বরং একজন দক্ষ শিক্ষা প্রশাসক ও পরিবর্ধিত একাডেমিক নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

এখনই প্রয়োজন নীতিগত উদ্যোগ:

বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে শুধু প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর সংখ্যা দিয়ে নয়; ভাবতে হবে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার সক্ষমতা নিয়েও।

কারিগরি শিক্ষার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি প্রয়োজন, উন্নত কারিকুলাম প্রয়োজন, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ প্রয়োজন—কিন্তু এসবের প্রতিটি উদ্যোগকে কার্যকর করতে প্রয়োজন দক্ষ ও আধুনিক ব্যবস্থাপক।

এই বাস্তবতায় বিসিএস (কারিগরি শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য BPATC কিংবা সেই মানের প্রবেশকালীন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কর্মজীবনে পর্যায়ক্রমিক পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালু করা একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে।এটি কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদানের প্রশ্ন নয়; বরং দায়িত্বের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরির প্রশ্ন।

কারিগরি শিক্ষার মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে হলে শুধু শিক্ষার্থী ও অবকাঠামোর দিকে নয় যে কর্মকর্তারা এই বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থাকে মাঠপর্যায়ে পরিচালনা করছেন, তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

কারণ দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরির জন্য দক্ষ শিক্ষক প্রয়োজন, আর একটি আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষা প্রশাসক।

বাংলাদেশ সরকার যখন কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে, তখন কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগও জাতীয় উন্নয়নে বিনিয়োগেরই অংশ।

প্রকৌশলী সোহাইল আহমেদ

৪৪তম বিসিএস কারিগরি শিক্ষা ক্যাডার

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD