Logo

প্রাথমিক-মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২০
প্রাথমিক-মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টানা কর্মবিরতি পালন করায় দুই স্তরের বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষায় ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আজ থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। একইসঙ্গে মাধ্যমিকের চলমান বার্ষিক পরীক্ষা ও এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা। ফলে সারাদেশে পরীক্ষার সূচি ভেঙে পড়ছে, দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যস্ত হচ্ছে শিক্ষাপঞ্জি।

শিক্ষকদের এই কর্মবিরতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বছরের প্রস্তুতি শেষে শেষ মুহূর্তে এসে পরীক্ষা অনিশ্চয়তায় পড়ে তারা মানসিক চাপে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকরা বলছেন, বেতন–গ্রেড, পদোন্নতি, কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন দাবি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত হওয়ায় তারা কর্মবিরতিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, যেকোনো দাবি থাকতে পারে, কিন্তু বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন বন্ধ করে দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার।

সাড়ে তিন লাখ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ৩ দফা দাবিতে এবং সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা ৪ দফা দাবিতে টানা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। দুই স্তরের শিক্ষকরা একই সময়ে পাঠদান ও পরীক্ষা বর্জন করায় বার্ষিক এবং এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষকরা ৯ম গ্রেডে এন্ট্রি, ক্যাডারভুক্তি, টাইমস্কেল, পদোন্নতি ও বকেয়া সুবিধাসহ ৪ দফা দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে আন্দোলন জোরদার করেন। কোনো সমাধান না পেয়ে তারা ঘোষণা দেন— ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা ও খাতা মূল্যায়ন বর্জন করবেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে তিন লাখের বেশি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক ১০ম গ্রেডে বেতন-উন্নীতকরণ, উচ্চতর গ্রেড সমস্যা সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে ২৭ নভেম্বর থেকে পাঠদান বন্ধ রেখেছেন। দাবি পূরণ না হলে পরীক্ষাও বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহকারী শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতি সরকারি চাকরি আইন ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থি। বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষকদাবি যৌক্তিক হলেও সমাধানের জন্য অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। পে-কমিশন বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা পাঠিয়েছে। কোনো ধরনের শৈথিল্য বা দায়িত্বহীন আচরণ করলে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একইভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক, নির্বাচনী ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা যথাসময়ে আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

পরীক্ষা স্থগিত ও অনিশ্চয়তা নিয়ে অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগে। তারা বলছেন, শিক্ষকেরা দাবি তুলতেই পারেন, তবে সেই দাবির কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বছরের প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে এসে অন্তরায় সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বেড়ে গেছে।

মাউশি পরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের দাবির গুরুত্ব বুঝি, তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাই। চলমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীরা তাদের বছরের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পাবে।’

জেবি/এসএ
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD