সংসদে প্রথম বক্তব্যেই শিক্ষা নিয়ে যে প্রশ্ন তুললেন হান্নান মাসউদ

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত তরুণ সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। সংসদে প্রথম বক্তব্যেই তিনি নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নদীভাঙনের কারণে হাতিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়ছে কি না—সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা তালিকা রয়েছে কি না, তা তিনি জানতে চান।
সংসদ সদস্য বলেন, শুধু নোয়াখালী নয়; দেশের যেসব এলাকায় নিয়মিত নদীভাঙন ঘটে, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বারবার স্থানান্তরের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে ওইসব অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী—সে বিষয়েও তিনি জানতে চান।
বিজ্ঞাপন
বক্তব্যে তিনি নোয়াখালীর একটি বিশেষ এলাকার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ‘হরিণের দেশ’ বা ‘নিঝুম দ্বীপ’ নামে পরিচিত এলাকাটিতে এখনো কোনো মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সেখানে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও তীব্র শিক্ষকসংকট রয়েছে বলে জানান। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান তিনি।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, অতীতে নদীভাঙনের কারণে ওই অঞ্চলে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনা তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে নকলবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি এলাকাটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তখন নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখতে পান। পরে তৎকালীন সরকারের নির্দেশনায় সেসব প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য যদি নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার শিক্ষা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়কে জানান, তাহলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। প্রয়োজনে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া ওইসব অঞ্চলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সেগুলোর সার্বিক অবস্থা কী—তা জানতে একটি জরিপ পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাই শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।








