প্রবেশপত্র তো মিললই না, উল্টো মারধরের শিকার শিক্ষার্থী

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় এক শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না দেওয়ার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বাংলা ও ইংরেজিসহ অন্তত চারটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী মো. রায়হান হোসেন কুল্লা ইউনিয়নের কৈলাস চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার মা নাজমা বেগম বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সব ধরনের বকেয়া পরিশোধ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তার ছেলের প্রবেশপত্র আটকে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
রায়হানের পরিবার জানায়, কৃষক বাবা গোলাম হোসেন কষ্ট করে ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলেও রায়হান প্রবেশপত্র হাতে পাননি। নির্ধারিত দিনে সহপাঠীরা পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি পরীক্ষাকক্ষে বসতে পারেননি।
রায়হান জানান, পরীক্ষার আগে স্কুলে গেলে তাকে বলা হয় তার প্রবেশপত্র আসেনি। কিন্তু পরবর্তীতে এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন, পরীক্ষার হলে তার নির্ধারিত আসন ফাঁকা থাকছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি আবার বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নেন এবং জানতে পারেন, প্রবেশপত্র স্কুলেই ছিল, তবে তাকে দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে তিনটি পরীক্ষা মিস করেন তিনি।
রায়হানের সহপাঠী পারভেজও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরীক্ষার হলে রায়হানের আসন ফাঁকা দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং রায়হানকে অবহিত করেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পরে প্রবেশপত্র নিতে গেলে রায়হানকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। রায়হানের মা দাবি করেন, চতুর্থ পরীক্ষার দিন সকালে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আমজাদ তাকে বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে রায়হান গেলে তার কাছ থেকে প্রবেশপত্র জোরপূর্বক নিতে চেষ্টা করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর ও আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। পরে কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে সে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
রায়হানের বাবা বলেন, আমি একজন গরিব মানুষ। আমার ছেলে যেন বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারে, সেটাই চাই।
আরও পড়ুন: সড়কের পাশে মিলল এসএসসি পরীক্ষার ২৬৮ খাতা
বিজ্ঞাপন
বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আগের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের সময়কার প্রশাসনিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাদের মতে, দায়িত্বে গাফিলতির ফলেই রায়হান এ ভোগান্তির শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায় এবং ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে কল কেটে দেন। অফিস সহকারীও অনুপস্থিত ছিলেন এবং তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র সরকার বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রশাসনিক বিষয়গুলো প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী দেখভাল করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানিয়েছেন, অভিযোগটি তিনি পেয়েছেন এবং অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।








